দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক যুবককে অচেতন করে নারী স্প্রে পার্টির সদস্যরা ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা লুট করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশের অনুসন্ধানে তার সত্যতা মেলেনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। পরে ওই যুবকের মুঠোফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, অনলাইন জুয়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা হারানোর পর ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন ওই যুবক। পরে তিনি অনলাইন জুয়ায় ওই পরিমাণ টাকা হারানোর কথা স্বীকার করেন।
ওই যুবকের নাম মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন (২১)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. মুসা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় সড়কের পাশে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন শেষে শনিবার রাতে তাঁরা সড়কের পাশে ওই যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর নারী স্প্রে পার্টির সদস্যরা ওই যুবককে অচেতন করে তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর অনুসন্ধানে নামে আনোয়ারা থানা-পুলিশ।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, ওই যুবকের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের মিল ছিল না। পরে তাঁর মুঠোফোনের লক খুলে পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সাতটি ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়ার সাইটগুলোতে টাকা পাঠানোর তথ্যও পাওয়া যায়।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে জাবেদ উদ্দিন নয়ন অনলাইন জুয়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা হারানোর কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমএস/