দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার জগদল ইউনিয়নের বিল আকছি মোড়ে ইশারত আলীর টেস্টি কর্নারে ছোলা ভূনার চাহিদা বেড়েছে। দেশ টিভিতে প্রচারের পর প্রতিদিন ছোলা ভূনার বিক্রি ৯০ কেজি থেকে বেড়ে প্রায় ১৭০ কেজিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা ইশারত আলী। মাত্র তিন ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে যায় এসব খাবার। প্রতি প্লেটের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা হওয়ায় প্রতিদিনই দোকানটিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী ক্রেতা।
মাগুরা সদর উপজেলার এই দোকানে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছোলা ভূনা বিক্রি হয়। ছোলার সঙ্গে মসলা ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় খাবারটি। ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামলাতে চালু করা হয়েছে টোকেন পদ্ধতি। দুই কেজি ছোলা দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি এখন ছয় থেকে সাতজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
সাধ্যের মধ্যে খাবার পরিবেশন করাই ইশারত আলীর মূল লক্ষ্য। প্রতি প্লেট ছোলা ভূনার সঙ্গে থাকে ভুনা রসুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ কুচি। স্বতন্ত্র মসলার স্বাদ এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে নিয়মিত ক্রেতাদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও দোকানটিতে আসছেন। ছোলা ভোনার পাশাপাশি এখন ডিম ছোলাও বিক্রি হচ্ছে।
নিয়মিত ক্রেতা মইনুল ইসলাম জিসান বলেন, বিকেল হলেই ইশারত আলীর ছোলার কথা মনে পড়ে। মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় এমন স্বাদের খাবার পাওয়া যায় বলে তিনি প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে সেখানে যান। দাম কম হলেও খাবারের মানে কোনো কমতি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কলেজশিক্ষক মো. আশফাক কাজী বলেন, ইশারত আলীর ছোলা ভূনার মসলার স্বাদ আলাদা। দোকান খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার শেষ হয়ে যায়। তাই একটু দেরি হলে অনেক সময় আর পাওয়া যায় না।
কলেজশিক্ষার্থী সাজিদ হোসেন বলেন, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার অন্যতম আকর্ষণ ইশারত আলীর ছোলা ভূনা। ২০ থেকে ৩০ টাকায় গরম গরম সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায় বলে তাঁদের কাছে দোকানটি জনপ্রিয়।
পরিবারের জন্য খাবার নিতে আসা গৃহিণী জামিলা রহমান বলেন, তাঁর পরিবারের ছোট-বড় সবাই ইশারত আলীর ছোলার ভক্ত। ঘরে চেষ্টা করেও ওই বিশেষ মসলার স্বাদ পাওয়া যায় না। ভিড়ের কারণে অনেক সময় বিকেল ৫টার মধ্যে না এলে খাবার না পেয়েই ফিরতে হয়।
দোকানের কর্মচারী আশিক মিয়া জানান, শুরু থেকেই তিনি ইশারত আলীর সঙ্গে কাজ করছেন। মাত্র দুই কেজি ছোলা দিয়ে ব্যবসা শুরুর দিনগুলোও তাঁর মনে আছে। বর্তমানে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। ক্রেতাদের চাপ নিয়ন্ত্রণে টোকেন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবীণ ক্রেতা মো. সাফুল ইসলাম বলেন, তুলনামূলক কম দামে পরিচ্ছন্ন ও সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায় বলে তিনি নিয়মিত দোকানটিতে আসেন। ইশারত আলীর আন্তরিক ব্যবহার এবং খাবারের ঘরোয়া স্বাদ তাঁকে বারবার সেখানে টেনে আনে।
নিজের উদ্যোগের শুরুর দিনগুলোর কথা তুলে ধরে ইশারত আলী বলেন, প্রথমে মাত্র দুই কেজি ছোলা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। মানুষের ভালোবাসা ও খাবারের স্বাদের প্রতি সততা তাঁকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ কেজি ছোলা ব্যবহার করে প্রায় ১৭০ কেজি খাবার তৈরি করেন, যা তিন ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। তাঁর উদ্যোগে ছয় থেকে সাতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
ইশারত আলী আরও বলেন, বেশি লাভের জন্য খাবারের দাম বাড়ানো বা মান কমানোর পথে হাঁটতে চান না তিনি। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারেন, সে জন্য প্রতি প্লেটের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা রাখা হয়েছে। বর্তমানে দোকানে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা বিক্রি হয় বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে মাগুরা শহরে একটি শাখাও চালু করা হয়েছে।
মাত্র দুই কেজি ছোলা দিয়ে শুরু হওয়া ইশারত আলীর এই উদ্যোগ এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি খাবারের দোকানে পরিণত হয়েছে। পরিশ্রম, খাবারের স্বতন্ত্র স্বাদ ও ক্রেতাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
এমএস/