দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’। বিশ্বের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের মধ্যে সামগ্রিক বিভাগে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে দলটি।
গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত ৪০টি দল এতে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় চুয়েটের হয়ে অংশ নেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। দলের অনুষদ উপদেষ্টা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ ও এস এম আমীর হামজা মাহমুদ মাহাদী।
দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, দীর্ঘ দুই থেকে তিন মাসের পরিশ্রমের পর এ সাফল্য এসেছে। এ জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তা, মা-বাবা, সহপাঠী, অগ্রজ ও অনুজদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরূপ বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানা যায়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিযোগিতায় মর্টারের প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ ছিল প্রবাহক্ষমতার জন্য, ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য, ১০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য, ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতার জন্য এবং ১৫ শতাংশ প্রতিবেদনের মানের জন্য।
দলের সদস্যরা জানান, মর্টারের প্রবাহক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল প্রস্তুতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন অনুপাতে মিশ্রণ তৈরি, বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিক্সচার পরীক্ষা এবং ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত মিশ্রণ নির্ধারণ করা হয়। পরিবেশগত প্রভাব ও খরচ কমাতে সম্পূরক সিমেন্টীয় উপাদান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
দলের উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েট প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। তবে আগের পুরস্কারগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। গত বছর মালয়েশিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়ে দলটি চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ভালো করার স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ অর্জন চুয়েট ও বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। ভবিষ্যতেও সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়ন ও প্রসারে কাজ করে সংস্থাটি। বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে।
যে আই