দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জমি থেকে মামুন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মামুন শেখ ওই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।
স্থানীয়, পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মামুন শেখের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল শেখ ও মালেক শেখের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর বিরোধপূর্ণ একটি জমি মামুনের পরিবার ফিরে পায় বলে দাবি পরিবারের।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, জমির আইলের পাশে তিনি পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, এ সময় তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।
মামুনের বড় ছেলে রাকিব বলেন, সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি মডেরহাট বাজারে যান। পরে সাড়ে ১১টার দিকে বাবার জমির আইলের পাশে পড়ে থাকার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের দখলে থাকা একটি জমি আবুল ও মালেক জোর করে দখল করেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, পরে মীমাংসার মাধ্যমে তাঁরা জমিটি ফিরে পান। ওই জমিতে কীটনাশক দিতে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
মামুনের স্ত্রী আসমা বেগম অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল ও মালেক বিভিন্ন সময় তার স্বামীকে মারধর করতে এসেছেন। তারাই স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করে বিচার চান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল শেখ। তিনি বলেন, ওই জমি তারা অনেক বছর আগে মামুনের কাছ থেকে কিনেছিলেন। কয়েকদিন আগে মামুন জোর করে জমিটি দখল করে নেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থল মৎস্য অফিসে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ নাহিদুস সালাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসিজি করা হয়, সেখানেও একই ফল পাওয়া যায়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই