দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।
শিশুটির মা রোজিনা বেগম (২১) বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রোজিনা বেগমের সঙ্গে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মোজাহিদের বয়স ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় তার বাবার বাড়িতে। পরে রোজিনা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে রোজিনা জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তার স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য তারা নিয়েছিলেন। তবে প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।
তিনি বলেন, শিশুটি নিরাপদে পুলিশের কাছে রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যে আই