দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণ থেকে জেলেদের বিরত রাখতে ২৮ হাজার ৯২৯ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে সরকারি সহায়তার চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নির্ধারিত বিতরণকেন্দ্রে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির আওতায় মোট ৭২৩ মেট্রিক টন চাল পাবেন সুবিধাভোগী জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত শরীয়তপুরে প্রচুর ইলিশ আহরণ করা হয়। চলতি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জেলার জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না নামেন এবং ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চাল বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলেদের নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন বেপারী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবছরই মা ইলিশ সংরক্ষণে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করে আসছেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত জেলেদের যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না নামেন, সে জন্য সরকার তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। শরীয়তপুরে নিবন্ধিত ২৮ হাজার ৯২৯ জন জেলের জন্য ৭২৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ও তালিকাভুক্ত জেলেদের কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ সময় কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/