দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী সেতু থেকে আটিগ্রাম জিসি সড়ক নির্মাণের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের অংশ ভেঙে পড়ায় প্রস্থও কমে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি উপজেলার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময়ই সড়কের কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এখন নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়কটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। গাজীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুইঁ এন্টারপ্রাইজ কাজটি করে। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি স্থানে পাশের অংশ ধসে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার প্রস্থও কমে গেছে। ফলে বিপরীত দিক থেকে দুটি যানবাহন এলে পাশ কাটিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সড়কটি ব্যবহার করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ। এ সড়ক দিয়ে জেলা শহর এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাতায়াত করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর সময়ই কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তখন বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন এক বছর না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, সড়কের একাধিক জায়গা সরু হয়ে গেছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটানো কঠিন হয়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত সড়কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজ খরচে তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি।
জানা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর মধ্যে সংস্কার না হলে পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করানো কঠিন হতে পারে।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে অতি দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।
মেসার্স জুইঁ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্মাণকাজ শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী সড়কটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজের জামানত ও তাদের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বিল এখনো বকেয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, সড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হবে। সংস্কারকাজ শেষ করার পরই বকেয়া বিল উত্তোলন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণের কাজের মানও খতিয়ে দেখা হোক। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার না হলে ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
এমএস/