দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘আমার শাশুড়ি নাই, আমার জামাই নাই, আমার মেয়ে নাই, আমার ছোট্ট নাতিটাও নাই রে আল্লাহ। তুমি আমারে কার কাছে রাইখা গেলা। আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম?’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামী, মেয়ে, শাশুড়ি ও নাতির মরদেহ দেখে এভাবেই বিলাপ করছিলেন চায়না বেগম।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন—জামালপুরের নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তার মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও পাঁচ বছরের নাতি মিনাল। নিহত অপর তিনজন হলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুজন সরকার (৪৫), আকরাম মিয়া (৫১) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)।
মর্গের সামনে একে একে স্বজনদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বারবার সেগুলো ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছিলেন চায়না বেগম। পাশে থেকে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর ছোট ভাই মোবারক হোসেন।
স্বজনদের মৃত্যুতে শোকাহত চায়না বেগম বলেন, ‘সকালেও সবাই একসঙ্গে ঘর থেকে বের হইছে। গাজীপুর গিয়া ফোন দেওয়ার কথা আছিল। আর এহন ফোন আইলো থানা থাইকা। আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম।’
নিহত মোফাজ্জল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। স্ত্রী চায়না বেগম, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে ছিল তার সংসার।
পরিবারের স্বজনেরা জানান, বৃদ্ধ মা রাশিদা বেগমকে বাড়ি থেকে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোফাজ্জল কয়েক দিন আগে গ্রামের বাড়িতে যান। শুক্রবার সকালে মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে ময়মনসিংহে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চারজনই প্রাণ হারান।
মোফাজ্জলের ভাতিজা রোকন বলেন, ‘নান্দিনা থেকে মা, মেয়ে ও নাতীকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়ার জন্য সকালে রওনা দেয়। দুপুরের পর ফোন আসে, পরিবারের সবাই বাসের চাপায় মারা গেছে। এখন আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা কি বিচার পাব? কার কাছে বিচার দেব?’
নিহতরা জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা দড়ি হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। ময়নাতদন্ত শেষে চারটি মরদেহ নিয়ে স্বজনরা যখন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন, তখন চায়না বেগমের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মর্গের সামনের পরিবেশ।
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই একটি পরিবারের চারজনকে হারিয়ে এখন স্বজনদের সামনে কেবল শোক আর শূন্যতা।
যে আই