দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ঝমেলা বেগমের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। ঘরের চার দেয়ালই হয়ে উঠেছিল তার পৃথিবী। মঙ্গলবার প্রায় ১০ বছর পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে এলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ঝমেলা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে একটি হুইলচেয়ার, ১০ হাজার টাকা ও এক ব্যাগ খাবার সহায়তা দেন। পরে তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঘরের বাইরে আনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝমেলার বসতভিটায় মাটি ভরাট, একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কথাও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪০ বছরেরও বেশি আগে স্বামীকে হারিয়েছেন ঝমেলা। তার একমাত্র ছেলে বেঁচে থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন মেয়েও। ফলে জীবনের শেষ বয়সে এসে আপন বলতে তেমন কেউ নেই তার।
অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের ভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে ঝমেলাকে। তাতেও সুস্থ হননি তিনি। অর্থের অভাবে এখন প্রায় বিনা চিকিৎসাতেই দিন কাটছে তার। যে ঘরে থাকেন, সেখানেও এত দিন বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়েই কেটেছে তার দিন-রাত।
একসময় জোসনা নামের এক মেয়েকে নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন ঝমেলা। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জোসনার বিয়ে হয়। বর্তমানে জোসনার পরিবারও অন্যের বাড়িতে বসবাস করে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অসহায় ঝমেলার নিয়মিত দেখাশোনা করা তাদের পক্ষে কঠিন।
স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে খাবার জুটলেও চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ঝমেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি কোনো সরকারি ভাতাও পান না।
ঘরের বাইরে এসে কিছুক্ষণ চারপাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ঝমেলা। দীর্ঘদিন পর মুক্ত বাতাসে বসার সুযোগ পেয়ে তার চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঝমেলা বেগমের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছি। হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় তাকে আনারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) সাইফুল ইসলাম কমল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক মো. জাহিদুল হক মনির, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিক মুজাহিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
যে আই