দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীতে অটোচালক মো. জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহতের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চুরি করা তিনটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সাইফুল ইসলাম (২৯), তাঁর সহযোগী মো. মামুন হাওলাদার (২৯) এবং চোরাই ব্যাটারি ক্রেতা মো. শুক্কুর আকন (৪৫)।
সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাকারিয়া শরীফ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের লোহালিয়া নদী থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা মো. রুহুল আমিন শরীফের অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা, চুরি, আলামত নষ্ট ও অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার পর জেলা পুলিশের একাধিক দল, গোয়েন্দা পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুর থেকে সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী থেকে মামুন হাওলাদার এবং মহিপুর থানা এলাকা থেকে শুক্কুর আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, জাকারিয়া ও সাইফুল আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইয়াবা সরবরাহের কথা বলে সাইফুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন জাকারিয়া। পরে ইয়াবা দিতে না পারায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এর জেরে সাইফুল তাঁর সহযোগী মামুনকে নিয়ে জাকারিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াবার চালান আনার কথা বলে জাকারিয়াকে লোহালিয়া নদীর তীরে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদক সেবনের একপর্যায়ে টাকা লেনদেন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হলে সাইফুল সিএনজির তার দিয়ে জাকারিয়ার গলায় ফাঁস দেন এবং মামুন তাঁর পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
হত্যার পর আসামিরা জাকারিয়ার অটোরিকশাটি বিসিক শিল্প এলাকার পাশের নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে তিনটি ব্যাটারি খুলে অটোরিকশাটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে চোরাই ব্যাটারিগুলো মহিপুরের শুক্কুর আকনের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেন তাঁরা।
তদন্তের অংশ হিসেবে নদী থেকে জাকারিয়ার অটোরিকশা এবং শুক্কুর আকনের কাছ থেকে বিক্রি করা তিনটি ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যে আই