দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার অর্কা পল্লীর বাসিন্দা সেতারা বেগম। ২০০১ সালে স্বামীকে হারানোর পর ভাঙা ঘরে বসেই মাত্র ৪০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ছোট্ট একটি দোকান শুরু করেন তিনি। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে চলছিল সংসার। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থাকলেও পুঁজি ও সুযোগের অভাবে তা হয়ে উঠছিল না।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ দেশ টিভিতে সেতারার জীবনসংগ্রাম নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর তিনি পেয়েছেন নতুন ঘর। এবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছে ছওয়াব ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সেতারার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি কনফেকশনারি দোকান। দোকানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেতারা কনফেকশনারি’।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ছওয়াবের কুয়াকাটা প্রকল্প ব্যবস্থাপক আফতাব উদ্দিন সেতারার হাতে দোকানটি বুঝিয়ে দেন। এ সময় অর্কা পল্লীর বাসিন্দা এবং ছওয়াবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছওয়াব ফাউন্ডেশনের ‘স্বাবলম্বী প্রকল্প ২০২৪-২০২৬’-এর আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দোকানের তাকজুড়ে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। একসময় যে নারী সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতেন, এখন তিনিই ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সেতারা বলেন, ‘আমার ছয় সন্তান। তারা ঠিকমতো আমাকে জিজ্ঞেস করে না। তারাও খেতে পারে না। আমি ঘরে বসেই ৪০০-৫০০ টাকা নিয়ে প্রতিদিন রুটি-কেক বিক্রি করতাম। তা দিয়েই সংসার চলত। অনেক কষ্ট হতো। অনেক দিন না খেয়ে দিন পার করেছি। এটা আমার কাছে শুধু একটা দোকান নয়, এটা আমার নতুন করে বাঁচার অবলম্বন।’
সেতারার মতো অসহায় নারীর জন্য এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রাও। স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, অর্কা পল্লীর জেলে পরিবারগুলো খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। তাদের মধ্যে বিধবা সেতারা ছিলেন একেবারেই অসহায়। নতুন ঘরের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের এমন উদ্যোগ অসহায় ও স্বামীহারা নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। সেতারার মতো নারীদের স্বাবলম্বী করতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান তিনি।
সেতারার মতো অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান ছওয়াব ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার লোকমান হোসাইন তালুকদার। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছওয়াব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে রয়েছে। জেলে পল্লীর অসহায় পরিবারগুলোর জন্য শুধু ঘর নির্মাণ নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সহায়তার হাত যখন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, তখন বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের গল্প। বিধবা সেতারার ‘সেতারা কনফেকশনারি’ তেমনই ঘুরে দাঁড়ানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
যে আই