দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করতে আসা এক প্রতারক চক্রকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস।
আটকরা হলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই সহযোগী তার আপন ভাই ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুয়া দলিল দেখিয়ে ভূমি অফিস থেকে নামজারি করে খাজনা কেটে জমি বিক্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসেছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই ভাই সহযোগী ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার। জমিটি ক্রয় করার জন্য নড়িয়ার রতন সরদার নামে এক ব্যক্তি তাদেরকে অগ্রিম ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন। টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও দলিল লেখকদের মাধ্যমে নিরীক্ষা করা হলে তারা রতন সরদারকে জানিয়েছিল কাগজপত্র সঠিক। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এলে রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীরা নিশ্চিত করেন যে নামজারি মিউটেশন হয়েছে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে। এরপর ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই সহযোগী ইকরাম ও সুরুজকে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রতন সরদার বাদী হয়ে ইয়াসমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী রতন সরদার বলেন, ‘ইয়াসমিন বেগম ও তার সহযোগীরা প্রতারক চক্র। আমি বুঝতে পারিনি। আমি ভেন্ডার ও দলিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কাগজপত্র দেখানোর পরে তারা জানিয়েছেন সব কিছু ঠিক আছে। তাদের থেকে নিশ্চায়ন পেয়ে আমি ইয়াসমিনকে ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা দিয়েছি। আজ দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে রেজিস্ট্রার অফিসে আসার পর আবার নিরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে যে দলিল দিয়ে নামজারি করা হয়েছে সেই দলিলটি জাল। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব ও তার অফিসের স্টাফদের সহযোগিতায় ইয়াসমিন ও দুই প্রতারককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আমি এখন থানায় এসেছি মামলা দায়ের করতে। আমি ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক দপ্তরের অসাধু চক্র ও ইয়াসমিন বেগমসহ তার দুই সহযোগীর বিচার দাবি করছি।’
নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় বলেন, ‘জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করতে আসা ইয়াসমিনসহ তার সহযোগীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি আমি।’
বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী রতন সরদার থানায় এসেছেন মামলা দায়ের করতে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইয়াসমিন ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করা পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
/অ