দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী রক্ষায় পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এসব নদ-নদীর দূষণের ৪২৪টি উৎস বা স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। চিহ্নিত দূষণের উৎসগুলো বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশের নদ-নদী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের দূষণের শিকার হচ্ছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নদীতে দূষিত পদার্থ পড়ছে। নদী দূষণমুক্ত করতে প্রথমে দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর ৪২৪টি দূষণের স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব উৎস বন্ধে পাইলট প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে।
তিনি বলেন, শুধু নদী পরিষ্কার করলেই হবে না, নদীতে যাতে নতুন করে দূষিত বর্জ্য প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নদ-নদী রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দূষণের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাগুরার পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে নদী, খাল, জলাশয় ও বৃক্ষসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশের ওপর যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সংসদে এক ধরনের কথা বলছেন, আবার সংসদের বাইরে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তার দাবি, এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা মিথ্যাচার করে চলেছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে সরকারের আমলেই নিয়োগ হোক না কেন, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে কেউ বিপদে পড়বেন না। কর্মকর্তাদের কাজ সরকারকে সহযোগিতা করা।
সকাল ১১টার দিকে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রীর দুই দিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারি সফরসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর মাগুরায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবিরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
যে আই