দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরার বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের দেড় মাসের মধ্যে আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের বেজমেন্টে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুনের পর বেজমেন্ট ধোঁয়ায় ভরে গেলে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে রোগীদের নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বেজমেন্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা যায়। তবে আগুন তখন আর ছিল না। হাসপাতালের কর্মীরা আগেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রোগীদের একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও একসঙ্গে অনেক রোগী নিচে নামলে হুড়োহুড়িতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল।
অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বহুতল হাসপাতালটিতে বিভিন্ন তলায় অক্সিজেন সরবরাহের লাইন রয়েছে। বেজমেন্টে থাকা সিলিন্ডারের চাপ সামলাতে না পারায় পাইপে ত্রুটি তৈরি হয়ে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে কারিগরি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কারণ বলা যাবে না।
ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজন মতিয়ার বলেন, রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর সময় হঠাৎ দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে রোগীকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন তারা। বাইরে এসে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান। তার স্বজন গলা ও থাইরয়েডের সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে আগুনে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
আরেক রোগীর স্বজন জানান, তাঁর রোগী আগের দিন সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। তিনি হাসপাতালের অষ্টম তলায় ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে নার্স ও অন্যরা রোগীদের নিচে নামতে বলেন। পরে কয়েকজন মিলে ওই রোগীকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী ময়না বলেন, হাসপাতালের বিপরীত পাশে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এর আগে একই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় নতুন করে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেন কর্মরত স্টাফরা। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সে সময় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন তলা থেকে রোগীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনার পর আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্তের কথা জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। এর দেড় মাসের মধ্যে একই হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার এলাকায় ফের আগুন লাগার ঘটনায় হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অক্সিজেন সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে মঙ্গলবারের আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
যে আই