দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপের দাবিতে রাজধানীতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচি পালন করেছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তারা জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত বাংলাদেশ ও পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর অপরিকল্পিত ফসিল ফুয়েল ব্যবহার পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তারা।
তরুণ জলবায়ু কর্মীরা বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। তারা তেলের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
পরিবেশ কর্মীরা বলেন, চলমান বিশ্বে যুদ্ধসহ নানা কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এখনও তেল ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও কয়লার সংকটে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তাদের দাবি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফসিল ফুয়েল ও কয়লানির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়। এতে দেশের ঋণের বোঝা বাড়ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদ-নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।
সম্প্রতি কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত সান্তা মাতা সম্মেলনে অংশ নেওয়া তরুণ জলবায়ু কর্মী ফারিহা অমি বলেন, ওই সম্মেলনে ৫৭টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
তরুণ জলবায়ু কর্মীরা বলেন, সরকার ১০ হাজার কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও গড়িমসি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
রাইটার্সের পরিচালক সিয়াম বলেন, পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
/অ