দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর মোংলার যুবক বাদল ফরাজী ১৮ বছর কারাবন্দী থাকার পরও মুক্তি পাননি। ভারতের এক হত্যার মামলার আসামি ‘বাদল সিং’-এর সঙ্গে নাম বিভ্রান্তির কারণে ২০০৮ সালে আটক হওয়া বাদল, ভারতের তিহার কারাগারে ১০ বছর এবং দেশে আরও ৮ বছর—মোট ১৮ বছর কারাবাস ভোগ করেছেন। ভারতের আইন অনুযায়ী ২০২২ সালের ২০ জুলাই তাঁর সাজা পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু আইনি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জটিলতায় তিনি এখনও গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে বন্দি।
সরকারকে বাদল ফরাজীর নিঃশর্ত মুক্তির জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে তাঁর স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তাঁরা দাবি করেন, দ্রুত তাকে মুক্তি দেওয়া এবং ভুল বিচারের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হোক।
বাদল ফরাজীর বড় বোন আকলিমা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা পরপারে চলে গেছেন, মা মৃত্যুশয্যায়। মরার আগে তিনি শুধু একবার তাঁর ছেলের মুখ দেখতে চান। ১৮ বছর পার হয়ে গেল, আর কত অমানবিকতা সইব? আমার ভাই কোনো অপরাধ করেননি, তবু এত দীর্ঘ কারাবাস।’
মানববন্ধনে ‘বাদলের কারাবাস’ গ্রন্থের লেখক রাহিতুল ইসলাম ও প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল বাবু বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সাত দিনের মধ্যে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
বাদল ফরাজীর জীবনের ট্র্যাজেডি ২০০৮ সালে শুরু হয়। তাজমহল দেখার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে যাওয়া পর্যটককে ‘বাদল সিং’-এর সঙ্গে নাম মিলিয়ে বিএসএফ গ্রেপ্তার করে। দিল্লির আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া বাদল, তিহার কারাগারে পড়াশোনা ও ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরলেও, সাজা শেষ হওয়ার পরও মুক্তি পাননি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া বাদলের দীর্ঘকালীন কারাবাস মানবাধিকারের বড় লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
এমএস/