দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিহত আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া ক্যানিকে (৩৫) দুই দফায় মারধর করা হয়। মামলার প্রধান আসামি মো. জোবায়ের হোসেন পাপ্পু (২৯) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও সাত থেকে আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাস্তায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে নাঈমের প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী সংঘবদ্ধভাবে নাঈমকে মারধর করে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে নাঈম কিবরিয়া প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান। সেখানে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার গাড়ির ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২ জানুয়ারি নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন।
ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক জানান, ঘটনার শুরু একটি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে হলেও পরে একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী একত্র হয়ে নাঈমকে মারধর করে। এখন পর্যন্ত হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী ও হামলাকারীরা আগে একে অপরের পরিচিত ছিলেন না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি র্যাব-১ বারিধারা এলাকা থেকে প্রধান সন্দেহভাজন পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাপ্পুসহ দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা আই ব্লকের ১৫ নম্বর রোড থেকে নাঈমের প্রাইভেটকার ধাওয়া করে। পরে আই ব্লকের ৭ নম্বর রোডের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি থামানো হয়। নাঈম গাড়ি থেকে নামার পর তাকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে ১৫ নম্বর রোডের পাশে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকজন মারধর করে।
নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার আগে পাবনার বাড়িতে নাঈমকে খোঁজ করতে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক গিয়েছিল এবং তাকে পেলে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। এ কারণে তিনি এ ঘটনাকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনার জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে মানতে নারাজ। তার ধারণা, কেউ নাঈমকে চিনে ফেলায় পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিলেন বড়। তার ছোট ভাই ফাহিম কিবরিয়া বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত।
এবি/