দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। আগুনে মার্কেটটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পুরান ঢাকার সরু রাস্তাঘাট এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের খবর পায় এবং ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় একে একে ১০টি ইউনিট কাজ শুরু করে। এর সঙ্গে একটি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও একটি লাইটিং ইউনিট যুক্ত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রাখা গোডাউন থেকে। এসব গোডাউনে কসমেটিকস ও ব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। পরে আগুন বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকার সরু রাস্তাঘাট এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী ও পানিবাহী গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া এবং বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ কর্মী কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে কয়েক শ মানুষ উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
আহত দুই ফায়ার ফাইটারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে দুজন কর্মী প্রাথমিকভাবে অসুস্থ হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কতটি দোকান বা গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, আগুন নির্বাপণের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। পুরান ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামো ও দোকান-গোডাউনের বিন্যাসের কারণে পৃথক স্থাপনা গণনা করাও কঠিন।
মার্কেটটিতে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, ভবনের ওপরের অংশে গিয়ে তিনি কয়েকটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেখতে পেয়েছেন। তবে এর বাইরে অন্য কোনো ব্যবস্থা তার চোখে পড়েনি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবে।
মার্কেটের ভেতরে পানি জমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগুন নেভানোর জন্য ব্যবহৃত পানি কিছুটা জমেছে। তবে এ মুহূর্তে বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তারা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রতিটি দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে কত সময় লাগবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, মার্কেটের ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। পাঁচতলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউনিটগুলো আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
কে