আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার আইনকে ‘কালো আইন’ বলে মন্তব্য করেছেন জামাতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী। শুক্রবার জামাতের জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এ আইনে যুদ্ধাপরাধের মামলা ও বিচার হলে তা হবে ‘ইতিহাসের জঘন্যতম মিথ্যা মামলা ও বিচারকাজ’।
নিজামীর মতে, ইসলামী রাজনীতিকে ধ্বংস করতেই সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামাতে ইসলামীর বিরুদ্ধে লেগেছে।
তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী হওয়া ছিলো স্রেফ ভিন্নমতের চর্চা।
নিজামী বলেন, “একাত্তরে জামাতে ইসলামীর একটা রাজনৈতিক ভিন্নমত ছিল। পাকিস্তানের অবকাঠামোর মাধ্যমে, দেশের সমস্যার সমাধানের পক্ষে জামাতের অবস্থান ছিল। এ ভূমিকা নিয়ে কথা থাকতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে। কেউ এটাকে এর পক্ষে বলতে পারে, এর বিপক্ষে বলতে পারে। এই ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই।”
নিজামী জোর দাবি করেন, জামাতের কোনো নেতাকর্মী সে সময় হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও কোথাও জামাতে ইসলামীর কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা এই অভিযোগ দেয় নাই যে এরা লুট করেছে, এরা অগ্নিসংযোগ করেছে, এরা হত্যা করেছে, এরা ধর্ষণ করেছে। সে সময়ে আওয়ামী লীগের বন্ধুরাও জামাতে ইসলামীর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের সাক্ষী দেয়নি।”
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ জামাতের দৃষ্টিতে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও মন্তব্য করেন নিজামী।
যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হলে সেটি হবে ‘ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ’, এ দাবি জামাত আমিরের।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বাদী বানানো হচ্ছে মিথ্যা-মিথ্যি, সাজানোভাবে লোভ লালসা দেখিয়ে অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে। সাক্ষী বানানো হচ্ছে মিথ্যার উপর ভিত্তি করে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে গিয়ে তারা সংঘটিত করবেন মানব ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ।”
বিরোধীদল ময়দানে থাকলে টেন্ডারবাজি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্তর্কলহ থাকতো না এবং খুনখারাবি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।