জাহাজভাঙ্গা শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের চাপে শেষ পর্যন্ত সরকার জাহাজ আমদানি নীতি সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, সরকারের এ সংশোধনী একদিকে যেমন আদালত অবমাননার শামিল, অন্যদিকে এর ফলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।
গত কয়েক দশকে জাহাজভাঙ্গা শিল্পে কোনো নীতিমালা না থাকায় এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের উপরে। জাহাজে করে আসা অ্যাসবেস্টসসহ পিসিপি এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানে যেমন ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতী নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা, তেমনি চট্টগ্রাম উপকূলের পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন।
চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির কথা বলেছিলেন। পরিবেশের দিক বিবেচনা করে গত ২৬ জানুয়ারি আমদানি বিধি প্রণয়ন করে সরকার।
এতে বলা হয়েছিল, স্ক্র্যাপভেসেল আমদানির আগে সেগুলো বিষাক্ত বর্জ্য মুক্ত কিনা সেটা রপ্তানিকারক দেশের সরকার বা সরকার অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট শিপিং ডকুমেন্টের সঙ্গেই দাখিল করতে হবে।
তবে এতে আপত্তি তোলেন জাহাজভাঙ্গা শিল্পের মালিকরা।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, তাদের চাপেই সরকার আগের নীতি বদল করেছে।
গত সোমবার সংশোধিত নতুন আমদানি নীতিতে বলা হয়েছে: বিষাক্ত বর্জ্য নেই মর্মে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট হলেই হবে।
এ বিষয়ে বেলা'র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশ টিভিকে বলেন, “এখন যেটা বলা হলো জাহাজের যে ইনবিল্ট বর্জ্য সেটাসহ জাহাজ ঢুকে যাবে, এর বাইরে আর কোনো বর্জ্য নিয়ে জাহাজ ঢুকবে না। এর বাইরেতো আর কোনো বর্জ্য নিয়ে জাহাজ ঢুকতোই না। জাহাজের দূষিত বর্জ্য নিয়েই আমাদের আপত্তি। কারণ ওগুলো অপসারণের নূন্যতম সুযোগও বাংলাদেশে নেই এবং ওগুলো যখন সরানো হবে, জাহাজটা যখন ভাঙা হবে, শ্রমিকরা ক্যান্সারের মত মারাত্বক রোগে আক্রান্ত হবে।”
এ সংশোধনীকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন এ পরিবেশকর্মী।
তিনি আরো বলেন, “পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে প্রথম চিঠি গিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং উদীয়মান এ শিল্পকে বিকাশের স্বার্থে, যেখানে বিশ্বের সব দেশ এটাকে কমিয়ে আনছে, সেখানে এ শিল্প বিকাশের স্বার্থে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আমদানি নীতি আদেশকে সংশোধনী করতে বলেছে। এটা পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জাহাজভাঙ্গা শিল্প মালিকেরা একসঙ্গে যোগসাজসে এ সংশোধনীটা এনেছে।"
আপাতত এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তবে সংশোধনী আনতে তার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলবে। আমরা সুপারিশ করি নাই। এটা আন্তঃমন্ত্রণালয়ে মিটিং করা হয়েছে।”