অর্থের লোভ দখিয়ে গরীব ছাত্রদের দলে ভিড়িয়ে এবং এলাকায় আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে মৌলবাদী সংগঠন ছাত্রশিবির। এছাড়া কোচিং সেন্টার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে প্রতি বছরই তারা তৈরি করছে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী। ফলে এই অপশক্তির কাছে বছরের পর বছর জিম্মি হয়ে আছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
’৮০ সালের গোড়ার দিকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হয় জামাতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এজন্য প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে থাকে শিবির ক্যাডাররা। প্রায় এক দশকের মধ্যেই তারা বিনোদপুর, কাজলা, মেহেরচন্ডী, বুধপাড়া ও মির্জাপুর এলাকায় তৈরি করে আত্মীয়তার জাল। আর ক্যাম্পাসে চালাতে থাকে রগকাটার ঘৃণ্য রাজনীতি।
এ প্রসঙ্গে রাকসু’র সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না দেশ টিভিকে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে তারা ২/৩টা কাজ করেছে। একটা হলো, তারা এখানে প্রভাবশালী বিশেষ করে যাদের সমাজ কাঠামোর মধ্যে একধরনের প্রভাব রয়েছে এ সমস্ত পরিবারগুলোতে তারা বিয়েশাদী করেছে।”
আশি’র দশকের শেষ দিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নব্বইয়ের শুরুতে প্রশাসনিক মদদে বেপরোয়া হয়ে ওঠে শিবির। নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করতে কনটেস্ট, রেটিনাসহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মেস স্থাপন করে এগুলোকে বানিয়ে ফেলে ক্যাডার তৈরির কারখানা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্চুক রাবি’র এক ছাত্র বলেন, “এখানে বিয়ে করছে, ঘরজামাই থাকছে। তাদের সম্পর্ক বিল্ডআপ হচ্ছে এখানে”।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, “গরীব এবং দরিদ্র ছাত্রদেরকে ভর্তি এবং টাকা পয়সার প্রলোভন দেখায়। স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার, কনটেস্ট, রেটিনা এসব কোচিংয়ের ইনকাম দিয়ে ছাত্রশিবিরের অস্ত্র কেনা হয়। শিবিরের অস্ত্রের উৎসই হল এই টাকা।”
এছাড়া অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারা ব্যয় করে বিপুল অংকের অর্থ। মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিরোধ ও কার্যক্রমে স্থবিরতা আনার জন্য এ অর্থের উৎস সন্ধান জরুরি বলে মনে করেন রাবি’র সাবেক ছাত্রনেতারা।
এ সম্পর্কে সাবেক রাকসু ভিপি ও বর্তমানে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা দেশ টিভিকে বলেন, “যে সমস্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করে কিংবা জামাতকে সহায়তা করে সেই সমস্ত অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাতিল করা দরকার।”
ক্যাম্পাসে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে শিবিরের হাতে নিহত হয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। এর সর্বশেষ শিকার হন ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন।