রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার গভীর রাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা ফারুক হোসেন নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের আরও ৩০ কর্মী আহত হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের চার জনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে শিবির ক্যাডাররা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু না জানালেও আতঙ্কে হল ছেড়ে যাচ্ছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, হলে সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে শিবির ক্যাডাররা রাবি’র শাহ মখ্দুম হল থেকে গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফারুককে টেনে হিঁচড়ে টিভি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে উপুর্যপরি কোপাতে থাকে। পুরো টিভি রুম রক্তে ভরে যায়। এক পর্যায়ে সে মারা গেলে তার লাশ সৈয়দ আমির আলী হলের পাশের সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে রাখে। পরে মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারুকের বাড়ি জয়পুরহাটে।
সংবাদদাতা আরও জানিয়েছেন, হলে সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টার দিকে শিবির ক্যাডারদের হামলায় দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। এরপর ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে ৯ জন ও হাবিবুর রহমান হল থেকে একজন শিবির ক্যাডারকে আটক করে পুলিশ।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যায়। এরপরই আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেরচণ্ডি গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে শিবির ক্যাডাররা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের সামনে পুলিশের উপর গুলি ও বোমা হামলা চালায় তারা। বোমা ও গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনেকে রাতেই ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান।
শিবিরের তাণ্ডবে পুলিশ পিছু হটলে প্রথমে শাহ মখদুম হল, এরপর আমীর আলী, হাবিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিবির কর্মীরা। এ সময় আমীর আলী হলের ছাত্রলীগ কর্মী রুহুল আমীন ও জনি এবং হাবিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী বাদশার পায়ের রগ কেটে দেয় তারা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় আরেক ছাত্রলীগ কর্মী ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফিরোজের পায়ের রগ কেটে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।
পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে মিছিল করে মহড়া দিয়ে বেরিয়ে যায় শিবির কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজশাহী সংবাদদাতা।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাস থেকে ৬টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুরো ক্যাম্পাস ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। এখনো সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।