দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার আসামিকে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ অভিযোগ থেকে অব্যহতির চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী ও দ্রুত বিচার আদালত- ১ এর এক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন বনানীতে খুন হওয়া আমেরিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী ফারুক ভুঁইয়ার পরিবার।
গত ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন প্রবাসী ব্যবসায়ী ফারুক এবং তার গৃহপরিচারিকা সুমি। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী মিলির পরকীয়া প্রেমের জটিলতায় ফারুককে খুন হতে হয়েছে।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুকের পরিবার জানায়, এক প্রতিমন্ত্রীর প্রভাবে মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিকে আওয়ামী লীগ নেত্রী সাজিয়ে অব্যাহতি দেয়ার চেষ্টা চলছে।
আসামি মিলিকে অব্যহতি দেয়া হচ্ছে—এ খবর পেয়ে মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে দেখা করেন বলে জানান মামলার বাদী নিহতের ভাই ফরহাদ ভুঁইয়া।
সে সময়কার বর্ণনা দিয়ে ফরহাদ ভুঁইয়া বলেন, “প্রসঙ্গ তুলতেই আইন প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং তিনি আমার কোনো কথা শুনতে না চেয়ে বলেন, আপনারা এ মামলার বিচার পাবেন না। তিনি আরো বলেন, এ মামলা নিয়ে অনেক মন্ত্রী ও এমপি’র তদবির আছে।”
দ্রুত বিচার আদালত-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া টেলিফোনে বাদীর কাছে ওই প্রতিমন্ত্রীর নামে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছেন বলেও দাবি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা সেই কথোপকথন উপস্থিত সাংবাদিকদের শোনান ফারুকের পরিবার।
মোবাইলে রেকর্ড করা সেই কথোপকথন ছিল নিম্নরূপ।
বাদী: আইন প্রতিমন্ত্রীর বাসায় আপনি যদি যান, আপনি কন্টাক্ট করতে পারবেন?
পিপি: পয়েন্টটা আমি বলতে পারি। এটা আর নতুন কী? আপনার তরফ থেকেই আপনি যা দিলেন দিলেন, আমি দিয়া দিলাম। এটা আর নতুন কী? এইটা কিন্তু প্রত্যেকেই বুঝতাছে, স্যারও কিন্তু ইয়া বুঝতাছে। এইটা কিন্তু আমি বলতে পারি, কোর্টের অন্যরাও কিন্তু খুব নেগেটিভ। মিটিং করে আপনি পিপি অফিসে রিপোর্ট করাইয়া দেন। আর এমনিতে তারা যদি পানি-পুনি খাইতে চায়, একটা এমাউন্ট চায়, একটা এমাউন্ট দিয়া দিবেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ফারুক ভুঁইয়ার পরিবার।