সংসদ সদস্য আচরণ আইন, ২০১০ নামের বেসরকারি বিলটি পাস হলে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘সংসদ সদস্য: জনগণের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য আচরণ আইন-২০১০: কি এবং কেন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ অভিমত দেন তারা। সংসদ থেকে যখন-তখন ওয়াকআউট বা পারস্পরিক গালমন্দের সংস্কৃতি থেকে সংসদ সদস্যদের বের করে আনতে চলতি অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী।
জাতীয় সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা, তোষামোদ, নেতিবাচক সমালোচনা বা সংসদ বর্জন করে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি জনগণ পছন্দ করে না। সংসদ সদস্যদের আচরণ বিষয়ে টিআইবি’র এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পাশাপাশি এমন আইন থাকলে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিনসহ অন্যান্যদের দুর্নীতির বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো বলেও জানিয়েছেন তারা।
বৈঠকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মজিবুল হক বলেন, দুই নেত্রী যদি একসঙ্গে হয়ে ঘোষণা দেন যে তারা কোনো দুর্নীতিবাজকে মনোনয়ন দেবেন না, দুর্নীতিবাজ কাউকে আশ্রয় দেবেন না, হরতাল দেবেন না, তাহলে একদিনেই দুর্নীতি ৮০ ভাগ কমে যাবে।
আরেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী বলেন, “সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান, উনি যখন একটা সত্য কথাকে মিথ্যা বললো, আমি প্রথমেই আহত হয়েছি। আমি কি এটার জন্য এ পর্যন্ত এসেছি? নিজের কাছেই ধিক্কার লাগলো। আমার তো চাকরি করাই ভালো ছিল।”
প্রস্তাবিত এ বিলে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকলে তা প্রকাশ করবেন, নিজের, পরিবারের বা স্বজনদের আর্থিক সুবিধা হয় এমন কিছু করবেন না, নিজেদের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আয়ের উৎস প্রকাশ করবেন এবং ৫ হাজার টাকার বেশি দামের কোনো উপঢৌকন নিলে তা নৈতিকতা কমিটিকে জানাবেন।
বিলটির উত্থাপক সাবের হোসেন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি মনে করি, এটা দরকার। কারণ আমরা নেতৃত্ব দিচ্ছি, বিভিন্ন জায়গায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। তাহলে আমাদের ওপর তদারকিটা কে করবে বা কোন বিধানে হবে?”
তিনি আরো বলেন, “আমরা যাদের তদারকি করবো সেই কাজটা আরো বলিষ্ঠভাবে করতে পারি যদি আমরা প্রথমেই বলি, আমরা নিজেদের তদারকির জন্য একটা মেকানিজম তৈরি করেছি।”
আলোচকরা শিগগিরই বিলটি পাশ করার দাবি জানান।