চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হাফিজুর রহমান দ্বিতীয় দফা জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন রাঘব বোয়ালের নাম জানিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেয়া জবানবন্দিতে অস্ত্র সরবরাহকারী জাহাজ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি তিনি।
এদিকে, রোববার এ ঘটনায় জিঞ্জাসাবাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে আবারো রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৫টা থেকে রোববার রাত দেড়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমানের কাছে ১৬৪ ধারায় দ্বিতীয় দফা জবানবন্দি দেন হাফিজুর রহমান। বিচারকের খাস কামরায় দেয়া ৪৩ পৃষ্ঠার এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হাফিজ এই অস্ত্রপাচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন রাঘব বোয়ালের নাম প্রকাশ করেন।
তবে কোন জাহাজে করে এই বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ এসেছে তা সম্পর্কে কিছু বলেননি হাফিজ।
এই ঘটনায় এনএসআই’র ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছেন। এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দারকে আরো জিঞ্জাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছেন সিআইডি।
সোমবার এ ব্যাপারে শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেবে বলে জানা গেছে।
হাফিজুর রহমান ২০০৫ সাল থেকেই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে চট্টগ্রাম কারাগারে আটক রয়েছেন।
তিনি উলফা মিলিটারি উইং চিফ পরেশ বড়ুয়ার নির্দেশে সরাসরি এই অস্ত্র চালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে এসআই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দারকে গত বছরের ১৫ মে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কয়েকদফা রিমান্ডে নেয় সিআইডি।
বিগত ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে চট্টগ্রামের সিইউএফল’র সংরক্ষিত জেটিঘাট দিয়ে ট্রলার থেকে খালাসের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুর রহমান বাদি হয়ে অস্ত্র ও চোরাচালান আইনে আলাদ দুটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে আদালতে দুই মামলায় সর্বমোট ৪৪ জনকে আসামি ও ১১২ জনকে সাক্ষী করা হলেও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয়া হয়।