অনুমতি না নিয়ে গজিয়ে উঠা কয়েক হাজার স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা মঞ্জুরি কমিশন থেকে অনুমতি না নিয়ে কেবল সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য। ব্রিটিশ সরকার টায়ার-৪ পদ্ধতির নামে স্টুডেন্ট ভিসা সহজ করে দেয়ার পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাঠানোর জন্য অবৈধভাবে গড়ে ওঠে এসব কনসালটেন্সি ফার্ম।
ব্রিটেনের যেকোনো কলেজ থেকে অফার লেটার আর ব্যাংকে একদিনের জন্য ১০ লাখ টাকা দেখানোর মতো সহজসাধ্য পদ্ধতির নাম টায়ার-৪। এই পদ্ধতির আওতায় ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে গত দুই বছরে ব্রিটেনে গড়ে উঠা দেড় শতাধিক কলেজে। ওইসব কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করে অফার লেটার বাগিয়ে এনে বাংলাদেশেও হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠিত হয় হাজার হাজার কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান।
এ প্রসঙ্গে ওভারসিজ স্টাডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসফিকুর রহমান মোহন দেশ টিভিকে বলেন, “এই সমস্ত ফিল্ডে কাজ করার জন্য সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে টায়ার-৪ পদ্ধতি আসার পর আমরা একটা জরিপ করার চেষ্টা করেছি। সেখানে দেখেছি ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে যারা অ্যাবসুলিউটলি সিজন্যাল।”
শুধু যারা গেছে তারাই নয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে এখনও যুক্তরাজ্যগামী প্লেনে উঠার অপেক্ষায় রয়েছেন আরো ৩০ হাজার শিক্ষার্থী।
বিএসবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এমকে বাশার বলেন, “ইউকে হাইকমিশন কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে তাদেরকে ভিসা ইস্যু করেছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনে কলেজগুলোর ভিসা লেটার দিয়ে যে অ্যাপলিকেশনগুলো সাবমিট করা আছে তার বেশিরভাগই এখন সাসপেন্ড অবস্থায় আছে। এগুলো যতিদন এ অবস্থা থেকে ফিরে না আসে ততদিন তারা (ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ) হয়তো ভিসা ইস্যু করবে না।”
টায়ার-৪ পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে শুধু রাজধানীতেই নয়, সারাদেশেই গড়ে উঠেছে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ফার্ম।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দেশ টিভিকে বলেন, "এসব কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম-নীতির মধ্যে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এজন্য অনেক কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।"
তিনি আরো বলেন, পুরো ঘটনায় সরকার গভীর উদ্বিগ্ন।
ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “ভিসা পেয়েছে, ভর্তি হয়ে চলে গেছে, যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছে প্রতারকচক্র ভর্তির নামে টাকা নিয়েছে। তারপর তারা ধরা পড়েছে। ব্রিটিশ সরকার নিশ্চয় ব্যবস্থা নেবে। আমরা ফরেন মিনিস্ট্রিতে কথা বলবো কিভাবে আমাদের ছাত্রদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারি।”
গত ৩১ জানুয়ারি ব্রিটিশ সরকার স্টুডেন্ট ভিসার আড়ালে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশ, নেপাল ও উত্তর ভারতের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন স্থগিত করে।
জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকার সহজসাধ্য এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী মাসের মধ্যে নতুনভাবে সেদেশে ছাত্রভর্তি শুরু করতে পারে।