বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ক্লাসিক উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্রের রচয়িতা ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ আর নেই। শুক্রবার রাত ১১টায় উত্তরার নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অনেকটা নিভৃতেই চলে গেলেন ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ। গত ১ বছর পুত্র অজিতের মৃত্যুশোকে শয্যাশায়ী ছিলেন বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের অন্যতম পূরধা এই ব্যক্তিত্ব। এক সময়ের তুমুল মুখর মানুষটি চলে গেছেন চিরতরে - এই খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন বন্ধু, আত্মীয়পরিজন ও একসময়ের সাহিত্যসঙ্গীরা।
ড. আজাদ ছিলেন একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, শিক্ষাবিদ। বহুগুনে গুনান্বিত এই মানুষটির জন্ম ১৯৩২ সালের ৬ মে নরসিংদীর রামনগর গ্রামে। অমর-সৃষ্টি তেইশ নম্বর তৈলচিত্র ছাড়া গল্প, কবিতা, উপন্যাসসহ প্রায় শ’খানেক গ্রন্থের প্রণেতা তিনি।
কেবল লেখালেখি নয়, ড. আজাদ যোগ দিয়েছিলেন ভাষা আন্দোলন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আর লেখনী দিয়ে সমর্থন যুগিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি ও একশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারও জুটেছে। তবু তার এই বিদায়বেলায় পরিবারের সদস্যরা অসহায়, তাদের একটাই চাওয়া, তার জন্য একখণ্ড কবরের জায়গা যেন দেয়া হয় মিরপুর বৃদ্ধিজীবী কবরস্থানে, যেখানে শুয়ে আছেন শ্যালক বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানসহ সাহিত্যজীবনের বন্ধুরা।
সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য যেসব পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৬৪
- ইউনেস্কো পুরষ্কার ১৯৬৫
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ১৯৭৭
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাহিত্য পুরষ্কার ১৯৮৩
- আবুল মনসুর আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার ১৯৮৪
- লেখিকা সংঘ পুরষ্কার ১৯৮৫
- রংধনু পুরষ্কার ১৯৮৫
- অলক্তা সাহিত্য পুরষ্কার ১৯৮৬
- একুশে পদক ১৯৮৬
- শেরে বাংলা সাহিত্য পুরষ্কার ১৯৮৭
- নাট্যসভা ব্যাক্তিত্য পুরষ্কার ১৯৮৯
- কথক একাডেমী পুরষ্কার ১৯৮৯