পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে ১৫২ জন আরোহীসহ বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের মৃতদেহ উদ্ধার করে করাচিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মর্মান্তিক এই বিমান দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
দুর্ঘটনার একদিন পর বৃহস্পতিবার থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করতে শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত ৩ জনকে সনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো সনাক্তকরণের পর তাদের স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এয়ার-ব্লু নামক একটি বেসরকারি বিমান কোম্পানির মালিকানাধীন এয়ারবাস-৩২১ বিমানটিতে ৬ জন ক্রুসহ মোট ১৫২ জন আরোহী ছিলেন। স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার আমির আহমেদ এআরআই চ্যানেলকে বলেন, “তাদের বেঁচে যাওয়াকে অলৌকিকই বলতে হবে। কারণ আমাদেরকে বলা হয়েছিল যে কারো বেঁচে থাকার আশা খুব ক্ষীণ।”
এদিকে, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। আমির মেহমুদ নামের এমন একজন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বড় ভাই এই ফ্লাইটে করাচি থেকে ইসলামাবাদে আসছিল। সে বেঁচে আছে কিনা এখনো আমরা জানি না।”
গত বুধবার করাচি হয়ে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অবতরণের সময় হঠাৎ করেই বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোল টাওয়ারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভোরের দিকে বিমানটি ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের কাছাকাছি মারগালা পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়।