পোশাকশিল্প শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শিক্ষানবিসদের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেন। আগামী নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
নতুন মজুরি কাঠামোতে পোশাকশিল্প শ্রমিকদের জন্য আগের মতো ৭টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। এতে ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা আর শিক্ষানবিসদের জন্য রাখা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
এ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে শ্রমমন্ত্রী তা মেনে নিতে শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে আবার মজুরি বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের মতামতের জন্য ১৪ দিন সময় দেয়া হয়েছে। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এ সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি একেএ আজাদ বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে নতুন এ মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। এর মধ্যে কোনো মালিক নতুন কাঠামোতে বেতনের ব্যবস্থা করতে না পারলে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা করার দাবি ছিল। নতুন এ মজুরি কাঠামোর ব্যাপারে মতামত দিতে আরো সময় চেয়েছেন তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিল, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ৩ হাজার টাকা। সেখানে বাসা ভাড়া ৮০০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তে রাজি হলেও মালিকপক্ষ সাধারণ মালিকদের মতামত না নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করতে রাজী হননি। পরে শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আরো একদিন সময় চান তারা।
গত বুধবার বিকেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমই-এর সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠন দুটির নেতারা। টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টা বৈঠকের পর সাধারণ মালিকরা জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম, ব্যাংক ঋণের সুদ কমানো এবং তৈরি পোশাক শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করাসহ বিনিয়োগ নিরাপত্তার শর্তে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো মেনে নেয়ার কথা জানান। একইসঙ্গে তা ৪ মাস পর কার্যকর করারও দাবি জানান গার্মেন্টস মালিকরা।