
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে দেশ টিভিতে প্রতি শনি ও রোববার প্রচারিত হয় ধারাবাহিক নাটক ‘যাও পাখি’। আজাদ আবুল কালাম চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন অম্লান বিশ্বাস। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন-আবুল হায়াত, দিলারা জামান, আমিরুল হক চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, বিজরী বরকত উল্লাহ, চাঁদনি, গোলাম ফরিদা ছন্দা, সোলায়মান খোকা, নুরুল আলম মিল্কি, আজিজুল হাকিম, নাজনিন চুমকী, লিনা আহমেদ, রেজওয়ানা রাহি, জয়া রায়, আনান, পীরজাদা শহীদুল হারুন, তিতাস, তাঙ ময়ন, কাজী তামান্না তৃশা, শান্তা, শাহজালাল, মুগ্ধ, ওয়াফা, রনি, আবুহেনা চৌধুরী, যায়েদ বিন করিম বাচ্চু, হারুনুর রশিদ, মোশতাক হোসেন, জুয়েল, রাসেল, জয়া, জেমী, অধোরা, অহিলা, মোঃ বারেক, বিকাশ, পলাশ, মামুন, নিশু, ছবি।
কাহিনী সংক্ষেপ : সংসারটাকে কারো কারো কাছে খুবই আঁটোসাঁটো লাগে, যেমন লাগে যাওপাখি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কর্তার। কর্তার নিজের সংসারে মতি নেই, তিনি পৃথিবীটাকে নিজের সংসার মনে করেন। বউ ছেলেমেয়ের চাহিদার কাছে নত না হয়ে তিনি পালিয়ে বেড়ান ঘুরে বেড়ান মানুষগড়ার জন্যে, এগ্রাম থেকে সে গ্রাম। ঘরে ঘরে মানুষকে ভালো হবার কথা, আশার কথা, নীতিকথা, মিলেমিশে থাকার কথা শুনিয়ে বেড়ান। অচেনা অজানা গ্রামে তিনি সৎ ও সত্যে আদর্শ প্রচার করে বেড়ান। কর্তা ঘুরতে ঘুরতেই আবিষ্কার করেন বহেরু নামের এক আশ্চর্য মানুষকে। বহেরু কর্তার কিছু দেখাশোনা করেন। বহেরুর নামে গ্রামের নাম বহেরুগ্রাম। সে গ্রামজুড়ে নানান আজব জিনিস। আজব মানুষ। ধান চাল সবজি মাছ ইত্যাদির প্রাচুর্যেভরা বহেরুর বাড়ি। বহেরুর বাড়িতেই কর্তার আপাত ঠিকানা। বহেরুর বাড়িতে আছে চিড়িয়াখানা। আছে তাঁতী, সাঁওতালসহ নানান পদের মানুষ। বহেরু শক্ত সমর্থ উদার মানুষ। কর্তার দুই ছেলে রণেন আর সৌমেন, এক মেয়ে শীলা। রণেন আর শীলা বিবাহিত। সৌমেন চাকরি খুঁজছে, আড্ডা দেয়, টিউশানি করে। মাঝে মাঝে মার কথামতো বহেরুর বাড়িতে যায় বাবার খোঁজ খবর নিতে। বাবার সঙ্গে দেখা হয়, হয় না। বহেরুর বাড়ি থেকে কিছু ধান চাল সবজি মাঝে মাঝে নিয়ে আসে। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকাও কখনো কখনো আনে মায়ের তাগাদায়। কর্তা সংসার থেকে আলগা, কিন্তু বাঁধনছেঁড়া নন। রণেনের বউ বীণার শাশুড়ির সঙ্গে কথাকাটাকাটি করে, ছেলেপুলে বুকে আলগে রাখে। স্বামীকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করে। কর্তার বড়ো ছেলে বড়ো চাকুরে। উপার্জন মন্দ নয়, কিন্তু বাহুল্য খরচ আছে তার, অন্য নারীতে তার আসক্তি আছে, যা তার চালচলনে ধরা পড়ে। সৌমেন, আধুনিক মনস্ক। তাঁর বন্ধুবান্ধবীভাগ্য ভালোই। তাদের সঙ্গে তুমুল আড্ডা হয়। শহর আর গ্রামের আধুনিক মিশ্র জীবনের স্বাদ পাওয়া যায় যাও পাখিতে।