জীবনধারা

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ (১৫:৩৭)

‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত কবি আল মাহমুদ আর নেই

‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত কবি আল মাহমুদ আর নেই

অবশেষে না ফেরার দেশে ‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদ।

গতকাল ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

আল মাহমুদের পারিবারিক বন্ধু ও সহকারী কবি আবিদ আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আল মাহমুদ রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে রাত সোয়া ১০টায় তাকে আবার লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। নিউমোনিয়াসহ বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটলিতায় ভুগছিলেন কবি।

হাসপাতালের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি।

ডা. আব্দুল হাই জানান, কবির নিউমোনিয়া বৃহস্পতিবার থেকে বেড়ে গিয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে প্রেসার কমে যেতে শুরু করে। তবে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এরপর রাতে হঠাৎ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তখন হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যায়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে প্রেসার মেইনটেন হয় না। তখন ব্রেইন, কিডনি অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হলে মানুষ ক্লিনিক্যালি মারা যায়। তারও সেটাই হয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সক্রিয় থেকে যিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি কবি আল মাহমুদ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিও তিনি। এছাড়া তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালরে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মাহমুদ।

সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি।

লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদ ১৯৫৪ সালে লেখালেখির সূত্র ধরে ঢাকা আসেন। কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তার কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে স্থান করে দেয়।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে পঞ্চাশের দশকে এসে বাংলা কবিতার বাঁক বদল ঘটে। কবিতায় এ সময় রাজনীতি, আন্দোলন- সংগ্রামের পাশাপাশি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, লোকায়ত জীবন, সাম্যবাদ ইত্যাদি প্রবলভাবে উঠে আসতে থাকে।

পঞ্চাশের এ ধারার কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আল মাহমুদ। লোকায়ত জীবন ও সাম্যবাদ তার কবিতায় প্রতিফলিত হয়।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে সোনালী কাবিন ছাড়াও লোক লোকান্তর ও কালের কলস অন্যতম।

ডাহুকী, কবি ও কোলাহর, নিশিন্দা নারী উপন্যাস লিখেছেন আল মাহমুদ। তার গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত ও গন্ধবণিক ।

আল মাহমুদ দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি।

পাকিস্তান আমলে দৈনিক ইত্তেফাকের মফস্বল বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আল মাহমুদ। স্বাধীনতার পর দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আল মাহমুদ।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ইন্তেকাল

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

সাব্বিরের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

বিয়ে করলেন ক্রিকেটার লিটন দাস

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৯তম জন্মদিন আজ

টিভি ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আর নেই

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সর্বশেষ খবর

স্বৈরশাসক সিসি'র পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মিসর

সৌদি আরব ও আমিরাতে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দুর্দান্ত স্পেসিফিকেশন নিয়ে আসছে Redmi 8A, ফাঁস হল ডিজাইন

প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি পৌঁছেছেন