শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন

মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল, ২০১৯ (১৯:২৭)

ভিপি নূরকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

ভিপি নূরকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম -এসএম হলে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূরকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে হল সংসদ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

গতকাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফরিদ হাসানকে মারধরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিপি নূর এসএম হলে প্রবেশ করলে এই ঘটনা ঘটে। নূর এখনো অবরুদ্ধ রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফরিদ হাসানকে গতকাল রাতে মারধরে করে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৪টায় টিএসসির রাজু সন্ত্রাসবিরোধী ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি। পরে মানববন্ধন শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে এই ঘটনার অভিযোগ জানাতে এসএম হলে প্রবেশ করেন তিনি।

নূরের সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভিপি এসএম হলে প্রবেশ করার পরপরই হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তাহসান হোসেন রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের নেতৃত্বে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। এসময় হল সংসদের অনুমতি না নিয়ে হলে প্রবেশ করায় নূরকে গালিগালাজ করেন হল সংসদের ভিপি কামাল হোসেন এবং জিএস জুলিয়াস সিজার। একপর্যায়ে তারা ভিপির গায়ে হাত তোলেন কামাল এছাড়াও একজনকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

তারা নূরের কাছে হলে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে নূর বলেন, অভিযোগ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।

হল প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদের হেনস্তা করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হয়েছিলেন ফরিদ হাসান। তিনি ওই হল শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ওইসময় অভিযোগ উঠে, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে এবং তাকে হল থেকে বিতাড়িত করেছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনার সূত্র ধরে গতকাল সোমবার রাতে এসএম হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে তাকে আবারও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

মারধরের শিকার ফরিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র। মারধরে আহত ফরিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তার কপালের ডান পাশ থেকে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই পড়েছে।

হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের অভিযোগ, ফরিদ মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদ।

ফরিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ তদন্তে আজ একটি কমিটি গঠন করবে হল প্রশাসন বলে জানা গেছে।

ফরিদ অভিযোগ করেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসএম হলে নিজের কক্ষে (১৫৯ নম্বর) ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ওয়াসিফ হাসান পিয়াসের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা তার কক্ষে গিয়ে তাকে বের হতে বলেন। তারা ফরিদকে টানাহেঁচড়া করে হলের ডাইনিং কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ছিলেন হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার, হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান পিকুলসহ কয়েকজন। প্রথমে তাপস ফরিদের ওপর চড়াও হন। তারা ফরিদকে বলতে থাকেন, তোকে হলে থাকার সাহস কে দিয়েছে? ডাইনিং কক্ষে হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের সামনেই ছাত্রলীগ নেতারা ফরিদকে মারধর করেন। পরে মারধর থেকে বাঁচতে দৌঁড়ে হল থেকে পালিয়ে যান তিনি। ফরিদ জানেন না তাকে কেন মারধর করা হয়েছে। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আগে তার কক্ষে চারটি ইয়াবা রেখে তাকে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার।

তিনি বলেন, এসএম হল সংসদ ও হল শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে সোমবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একটি সভা হয়েছে। সভায় মাদক ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গৃহীত হয়েছে। ফরিদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ফরিদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির প্রথম প্রয়োগ হয়েছে। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি, ভদ্রভাবে হল ছাড়তে বলা হয়েছে। উত্তেজিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে থাকলে সেটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিষয়।

এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, মূলত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কারণেই ফরিদের ওপর ক্ষোভ ছাত্রলীগের। তাকে হলে থাকতে না দেয়ার ব্যাপারে হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষের নেতারা একমত। তবে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফরিদের জনপ্রিয়তা আছে।

এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার সাংবাদিকদের বলেন, ফরিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে আজ মঙ্গলবার হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ফের নাসায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে টিম অলিক

স্কুলছাত্রীকে লাইব্রেরিতে এনে ধর্ষণ, খুবি ছাত্র সাময়িক বহিষ্কার

উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ৭৩.৯৩%

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কাল

এইচএসসির ফল প্রকাশ ১৭ জুলাই

চলতি সপ্তাহে ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশ

এসএসসিতে পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ

সর্বশেষ খবর

এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুক গ্রেফতার

খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

স্বামীকে মারধর করে স্ত্রীকে ৩ জন মিলে ধর্ষণ

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনা সদস্য নিহত