শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৯ (১৭:৫৭)

আপাতত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফের সড়কে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উওর সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে চলমান আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম, বিইউপির ভিসিসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল যায় সেখানে।

আজ যারা নগর ভবনে যান: শিক্ষার্থী সামিউল, তামজিদ, সবুজ, আরেফিন, আকাশ, আসিফ ইকবাল, ইথেন, ফয়সাল এনায়েত, খসরু ও পারভেজ।

এদিকে, রাজধানীতে বাস চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার সুপ্রভাত বাসের চালক সিরাজুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দেবদাস চন্দ্র অধিকারী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুরে গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম চৌধুরী আসামিকে আদালতে হাজির করেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিনি চালকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

‘সুপ্রভাত’ পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীর পরিবারকে ‘জরুরি খরচ’ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দেয়।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সুপ্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করতে বলেছে আদালত।

রুলে সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের ‘অব্যাহত ব্যর্থতা’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং দুর্ঘটনায় নিহত আবরারের পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিআরটিএ, সুপ্রভাত পরিবহনসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল রাতে তার চাচা বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩:,এছাড়া দুর্ঘটনার পরপরই আবরারকে চাপা দেয়া সুপ্রভাত বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) চালক সিরাজুল ইসলামকে (২৪) আটক করে গুলশান থানা পুলিশ।

এদিকে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম তিনটি দাবি হলো—৩০২ ধারার অধীনে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার্জশিট গঠন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে দ্রুততম সময়ে অপরাধীর বিচার করতে হবে, সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে ও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা ও গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ঢাবির ভিসি ও এজিএস এ আন্দোলনে সমর্থন দেন।

এদিকে, আবরার আহমেদ চৌধুরীর নামে নির্মিতব্য ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে তারা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন।

প্রগতি সরণিতে সকালে বিইউপি, নর্থ সাউথ ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। ফলে অন্যে জায়গায় যান চলাচল বন্ধ হয় যায়।

ফার্মগেটে সকাল ১০টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এসময় পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায় এছাড়া পুরান ঢাকার তাঁতী বাজার এলাকার রাস্তা অবরোধ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ধানমন্ডি ২৭ থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত রাস্তা অবোরধ করে।

মিরপুর রোডে ধানমন্ডি ২৭ থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত পূর্ব পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’’আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’ এ ধরনের নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান আট দফা দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সত্যকি কবিরাজ জানান, ২৭ থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত একপাশের রাস্তা বন্ধ রয়েছে। বেলা ১১টার পর থেকে তারা রাস্তা অবরোধ করেছে, তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী বাসচাপায় নিহতের ঘটনায় আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য ক্লাস বর্জন করে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়ক অবরোধের আহ্বান জানানো হয়।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়।

এ দুর্ঘটনার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবারো আন্দোলনে নামে।

বিকাল পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনের পর বুধবার অবরোধ করার ঘোষণা দেয়া হয়।

আট দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি–এ কথা উল্লেখ করে মায়েশা নূর বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি বলতে বাসচালকের ফাঁসি চেয়েছি।

তিনি বলেন, ‘গতবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জাবালে নূরের রোড পারমিট বাতিল করা হয়েছিল বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু জাবালে নূর এখনও রাস্তায় চলছে। আমরা জাবালে নূর ও সুপ্রভাত বাস রাস্তায় দেখতে চাই না।'

গরম ও তীব্র যানজট দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে, রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় গুলশানা থানায় মামলা করেছেন তার বাবা ও চাচা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তফা আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা এ মামলায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলাম, চালকের সহকারী, বাসের কন্ট্রাকটর ও মালিককে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদ্দার বসুন্ধরা গেইটে প্রগতি সরণিতে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নম্বরের ওই বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার।

দুর্ঘটনার পর বিইউপির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দিনভর বিক্ষোভ করে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের ওই বিক্ষোভে পরে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও যোগ দেয়।

বুধবার সকালে বিইউপির শিক্ষার্থীরা আবারও প্রগতি সরণি অবরোধ করলে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন অংশে।

আবরারের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তাদের বাসা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি ব্লকে।

ইংরেজি মাধ্যমে 'এ' লেভেল শেষ করে গত বছর বিইউপিতে ভর্তি হয়েছিলেন আবরার। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়। মঙ্গলবার বিকালেই তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গত বছর ২৯ জুলাই রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো: শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬)।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল চালুর নীতিমালার অনুমোদন

ফের নাসায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে টিম অলিক

স্কুলছাত্রীকে লাইব্রেরিতে এনে ধর্ষণ, খুবি ছাত্র সাময়িক বহিষ্কার

উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ৭৩.৯৩%

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কাল

এইচএসসির ফল প্রকাশ ১৭ জুলাই

চলতি সপ্তাহে ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশ

সর্বশেষ খবর

বিদ্রোহীদের হাতে মিয়ানমারের ৩০ সেনা নিহত

কাশ্মীরে গোলাগুলি, পুলিশসহ নিহত ২

কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়: বাংলাদেশ

একুশ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত : ওবায়দুল কাদের