দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় পুশইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সীমান্তবাসীরা নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলার সঙ্গে ভারতের নয়টি সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা সীমান্ত, পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্ত এবং ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া, চকিলাম, চকচণ্ডি, বস্তাবর, শিমুলতলী ও তালান্দার সীমান্ত। এর মধ্যে সাপাহারের হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা এবং পোরশার নীতপুর সীমান্তে বিএসএফের হয়রানি ও সীমান্ত হত্যার অভিযোগ বেশি।
গত ৫ জুন নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। তবে জমিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই বিএসএফের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
করমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘জমিতে চাষাবাদ ছাড়া আমাদের অন্য কোনো কাজ নেই। জমিতে কাজ করতে গেলেই বিএসএফ ধাওয়া দেয়, ভয়ভীতি দেখায়। তারপরও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই মাঠে যেতে হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মতিন বলেন, ‘আমাদের জমিতে কাজ করলেও নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। অনেক সময় গরু চরাতে বা ঘাস কাটতে গেলেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’
পুশইন ইস্যুতে সীমান্তে সতর্কতা বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আমরা স্থানীয়রাও বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।’
পোরশা উপজেলার নীতপুর গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ জানান, সম্প্রতি বিএসএফের পুশইনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা রাতভর সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, ‘কোনো দেশে অবৈধ অভিবাসী থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ না করে পুশইনের মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।’
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
এমএস/