বিশেষ প্রতিবেদন

ksrm

শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮ (১৩:৫৫)

তারেককে ফেরানো কঠিন হবে আসামি প্রত্যার্পণ চুক্তি না থাকায়

তারেক রহমান

আসামি প্রত্যার্পণের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি না থাকার কারণে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে অভিমত আইনজ্ঞদের।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, যেহেতু চুক্তি নেই তাই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

শাহাদাত হোসেনের রিপোর্ট:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এরপর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর অর্থপাচার মামলায় ২০১৬ সালে তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়। আর ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এসব মামলা ছাড়াও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার অন্যতম আসামি তিনি।

এ মামলাগুলোতে সাজা হওয়ার পরে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে তৎপরতা জোরদার করে বর্তমান সরকার। ২০১৫ সালে একাধিক মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে তারেক রহমানকে বিচারের জন্য দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাজ্যের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডকে চিঠি পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া জায়নি।

বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের কমনওয়েলথ দেশের সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিয়ে এক সেমিনারে জানান তারেক রহমানকে ফেরাতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তাকে- তারেককে ফিরে আসতে হবেই।

আলোচনা চললেও তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে।

প্রথমত বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কোনো আসামি প্রত্যার্পণ চুক্তি নেই। এখন পর্যন্ত দুই দেশ সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ধরে একে অন্যকে সহযোগিতা করে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যুক্তরাজ্যের আদালত। এক্ষেত্রে দেখা হয় যে সাজার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হবে তার বাইরে তার অন্যকোনো সাজা না হয়। এছাড়াও বিচারের জন্য প্রত্যার্পিত হবার মতো কোনো অপরাধ তিনি করেছেন কিনা।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড যদি থাকে তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে তারমধ্যে ব্রিটেন আছে, মৃত্যুদণ্ড সেখানে তারা রাখে নাই, আবার কানাডাতেও তাই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যদি কোনো আসামি হয় তাহলে তারা ফিরিয়ে দেবে না। তবে একশর্তে অনককে দিতে চায় যেমন কানাডাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত সেখানে আছে। তবে তারা বলেছে যে, আন্ডার টেকইন দিতে হবে তারা দেশে ফেরে গেলে তার প্রাণদণ্ডের সাজা যেটা আছে সেটা কার্যকর করা হবে না।’

তারেক রহমানকে ফেরাতে যেহেতু এতো আইনি জটিলতা রয়েছে তাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে দিয়ে বিষয়টির সমাধানের পরামর্শ দেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তি হতে পারে সেটি একটা পথ, সেটি না থাকলেও অনেক সময় ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলের মধ্যে আলোচনার মধ্যে দুই সরকারের মধ্যে সমঝোতায় আসলে ফিরে নিয়ে আসা যায়।’

এদিকে স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে— একই সঙ্গে বিষয়টি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনকেও অবহিত করা হয়েছে।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ইভিএমে জাল ভোট দেয়ার সুযোগ নেই

দুর্নীতিবাজরা মনোনয়ন পাবেন না: কাদের

গুজবের পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি: কাদের

সংবিধানের বাধ্যবাধকতা নেই কোটা সংরক্ষণে, মত বিশ্লেষকেদের

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চক্রান্তকারীদের বিচার হয়নি এখনো

পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি অর্ধেকেরও বেশি

পরিবার ও দলের সদিচ্ছার অভাবেই জিয়া হত্যা মামলা এগোয়নি

ঈদে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের দল ঘোষণা, বাদ পড়ল গোলরক্ষক সোহেল

দেশে ফিরল তানিম

জাতীয় ঐক্য-যুক্তফ্রন্ট দাবি তা বিএনপি- জামাতের দাবির ফটোকপি

জাতীয় পার্টির লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া: এরশাদ