বিশেষ প্রতিবেদন

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ (১৫:১৬)

কোটা বাতিলে সাংবিধানিকভাবে সমস্যা নেই, সংস্কারই শ্রেয়

কোটা বাতিলে সাংবিধানিকভাবে সমস্যা নেই, সংস্কারই শ্রেয়

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করতে সাংবিধানিকভাবে কোনো সমস্যা নেই।

বিশ্লেষকরা বলেন, সংবিধানে অনগ্রসর কোনো গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে কিন্তু কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়া হয় নাই। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।

তবে কোটা পুরোপুরি তুলে দিতে চাইলে- মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত আইনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সংবিধানের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

নাগরিকের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

একই অনুচ্ছেদের ‘গ’ ধারায় বলা হয়েছে, যে শ্রেণির কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপোযোগী বিবেচিত হয়, সেইরুপ যে কোনো শ্রেণির নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, এটা একটি নির্দেশনা মাত্র কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে বিধানটি আছে যেটা বাতিল করে দিয়েছে কোটা সিস্টেম এতে করে আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা তো এমন না বিধানটি সংবিধান অনুযায়ী করা হয়েছে, সংবিধানের বিধান, সেটাকে বাতিল করে দিয়েছে অন্যেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি বলা যাবে না।’

মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য, বিশেষ সুবিধা দিয়ে যেসব আইন করা আছে কোটা তুলে দিলে সেসব আইন বাতিল করতে হবে মনে করেন ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া আইনজীবী।

মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে যেসব আইন আছে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যেমন বিভিন্ন গেজেট আছে তেমনি এ সমস্ত সুযোগ সুবিধা আলাদা করে কিন্তু আইনও পাস করা হয়েছে তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য, সেই আইনও বাতিল করতে হবে। যদি তাদের সুযোগ সুবিধা বাতিল করতে চান, এটা এমন নয় যে সংসদে ঘোষণা দিলেই বাতিল হয়ে যাবে। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠীর জন্য পিছিয়ে পড়া অনঅগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোনো বিশেষ বিধান করা না রেখে বা অনগ্রসর গোষ্ঠীর মানুষের জন্য বিশেষ বিধান করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে কোনোভাবে কোনো আইনগত বাধা নিষেধ থাকবে না অর্থাৎ এটা একটি ডাইরেক্টরি হিসেবে আছে এটা বাধ্যতামূলক না যে করতেই হবে কথাটা এমনভাবে নেই।’

ব্যারিস্টার শফিক বলেন, ‘যদি কেউ অনঅগ্রসর থাকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা আছে বা প্রতিবন্ধী যারা আছে তাদের জন্য যদি কোন বিশেষ বিধান করা হয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে করা হয় তাহলে সংবিধান বিরোধী হবে না।’

তবে কোটা প্রথা সম্পূর্ণ উঠিয়ে দেয়ার চেয়ে এর সংস্কার করাকেই শ্রেয় মনে করছেন তারা।

এদিকে, গত বুধবার কোটা নিয়ে যখন এতোকিছু তাহলে কোটাই থাকবে না—কোনো কোটারই দরকার নেই জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় কোটার দরকার নেই- মেধা অনুযায়ী নিয়োগ হবে আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

গড়ে শতকরা ৭০ ভাগের বেশি মেধাবীরা চাকরি পেয়েছে— তারপরও আন্দোলন হওয়ায় বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিলের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকে পরিকল্পিত বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এসব করেছে তারা ছাত্র হওয়ার অযোগ্য এর বিচার হবে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ঢাবিন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বাসায় হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চারটি মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

১৯৭৫ সালের নভেম্বর: বাংলাদেশের ইতিহাসের উত্তাল- রক্তাক্ত কয়েকটি দিন

দেশের রাজনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে সংলাপের মধ্য দিয়ে

শুরু হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা

ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী জোট নয় –ড. কামালের এ বক্তব্য ব্যক্তিগত

সম্প্রচার আইনে অসঙ্গতি রয়েছে, মতামত গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের

চলতি মাসেই জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আসবে

সিনহার পদত্যাগে বাধ্যের অভিযোগটি তদন্ত দরকার, মনে করেন আইনজ্ঞরা

জাগিয়ে তুলতে হবে তরুণদের

সর্বশেষ খবর

আ.লীগ ক্ষমতায় আসলেই মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়: শেখ হাসিনা

ইসির নির্দেশ মোতাবেক প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

দুই ঘটনায় সিইসি বিব্রত