বিশেষ প্রতিবেদন

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৭ (১৫:০২)

ভয়াল ১২ নভেম্বর: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ৫ লাখ মানুষের জীবন

ভয়াল-১২-নভেম্বর-প্রলয়ঙ্করী-ঘূর্ণিঝড়-কেড়ে-নিয়েছিল-৫-লাখ-মানুষের-জীবন

ভয়াল ১২ নভেম্বর: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ৫ লাখ মানুষের জীবন

রোববার ভয়াল ১২ নভেম্বর— ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর যে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল তাতে মারা গিয়েছিল উপকূলীয় এলাকার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ।

এ দিনে ভোলার উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঘড়। এতে প্রাণ হারায় এক লাখের বেশি মানুষ। সেই দুর্যোগের কথা মনে করে আজও আঁতকে উঠেন উপকূলের মানুষ। ঝড়ে ভোলার দৌলতখানে একই পরিবারের ৫ জনসহ পুরো বাড়ির ৫৫ জন প্রাণ হারায়। স্বজনহারা মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি সেই দুর্বিসহ স্মৃতি।

১৯৭০ এর ভয়াল ঝড়ে পুরো ভোলা লণ্ড-ভণ্ড হয়ে যায়। নদীতে যেমনি ভেসেছে মরদেহ ঠিক তেমনি গাছে গাছে ঝুলে ছিলো মানুষের মরদেহ। সেই ঝড়ে ৩ মেয়ে ও ২ বোন হারিয়েছেন ভোলার দৌলতখানের রাসেদা বেগম। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও আঁতকে উঠেন তিনি। স্বজন হারিয়ে বাকরুদ্ধ, খুঁজে পাননি কারো মরদেহ বলে জানান তিনি।

শুধু রাসেদা বেগম নয় তার মতো স্বজনহারা এমন মানুষের সংখ্যা অনেক দীর্ঘ। বেশিরভাগ পরিবারেই বেঁচে থাকার মতো কেউ ছিলো না। সেই ঝড়ে দ্বীপ জেলা ভোলা জেলার সাত উপজেলার বিস্তৃর্ণ জনপদ লণ্ড-ভণ্ড বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়। ঝড়ের ক্ষতচিহ্নের বর্ণনা করতে গিয়ে শিউরে উঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

উপকূল বাসীদের অভিযোগ উপকূলে একের পর এক ঝড় আঘাত হানলেও কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখনো হয়নি।

ভোলার চর কুঁকড়িমুকড়ির চেয়ারম্যান হাশেম মহাজন স্মৃতিচারণে বলেন, ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর যে ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল, তাতে বহু মানুষ মারা যায়। একটা প্রজন্ম হারিয়েছি আমরা। ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের জেলায় অল্প কিছু পুরুষ লোক বেঁচে ছিল, নারী আর শিশু ছিল না কোনো।

‘মুরব্বিদের কাছে শুনেছি, নারীদের যোগান দেয়ার জন্য সপ্তাহে একদিন হাট হতো সেখানে আশপাশের এলাকা থেকে মেয়েদের নিয়ে আসা হতো। হাটে আনা মেয়েদের সাথে এখানকার পুরুষদের বিবাহ দেয়া হতো।

তিনি বলেন, সেকারণে ঘূর্ণিঝড় বিষয়টি আমাদের জন্য একটা অভিশাপ।

মহাজন আরো বলেন, ১৯৭০ সালের তুলনায় এখন ঘূর্ণিঝড়ের মত বড় দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি বেড়েছে। সিগন্যাল শুনে বা গণমাধ্যম থেকে, বিশেষ করে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও সতর্কতা সম্পর্কে জেনে আগাম প্রস্তুতি নেয় মানুষ। তবে, ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগের আগাম বার্তা পাবার ব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল।

সেই সাথে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবার ক্ষেত্রে এখনো স্থানীয় মানুষদের মধ্যে অনীহার রয়েছে— কেবল সচেতনতার অভাবে মানুষ ভিটেমাটি, গবাদি পশু ছেড়ে যেতে চায় না।

বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ প্রথমবারের মত ১২ই নভেম্বরকে 'উপকূল দিবস' হিসেবে পালন করছে বেসরকারি কয়েকটি সংগঠন।

ভোলা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, ফেনীসহ উপকূলবর্তী ১৫টি জেলার ৩২টি উপজেলায় আজ এ নিয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

বেড়েছে শিশুদের ওপর হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা

আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়, মতামত বিশিষ্টজনদের

সাফল্য-ব্যর্থতা, সংকট-সুরাহায় নানা উদ্যোগের মধ্যদিয়েই শেষ হলো ২০১৭

সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান দেশের বিশিষ্টজনেরা

আরও খবর

দেশে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ গুণ: শেখ হাসিনা

আইভী-শামীমের দ্বন্দ্ব অনাকাঙ্খিত: খন্দকার মোশাররফ

শামীম ওসমান-আইভিকে ডাকা হবে: ওবায়দুল

চট্টগ্রাম থেকে ফিরলেন প্রণব মুখার্জি

আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আহ্বান ইউএনএইচসিআরের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চুক্তির বিষয়ে চারটি গভীর সংশয় প্রকাশ

দেশে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ গুণ: শেখ হাসিনা

এক শ্রেণী অবৈধভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়: শেখ হাসিনা

নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে: তারানা

আইভী-শামীমের দ্বন্দ্ব অনাকাঙ্খিত: খন্দকার মোশাররফ