ভুলে ভরা পাঠ্যবই দ্রুত সংশোধন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার তাগিদ

শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ (১৪:৩৬)
ভুলে-ভরা-পাঠ্যবই-দ্রুত-সংশোধন,-অপরাধীদের-বিচারের-আওতায়-আনার-তাগিদ

ভুলে ভরা পাঠ্যবই দ্রুত সংশোধন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার তাগিদ

নতুন পাঠ্যবইয়ে অসম্পূর্ণ বাক্য ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণার মতো বড় ভুলের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট ভুল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরের পাঠ্যবইয়েই দাঁড়ি, কমা, বিরামচিহ্নের সঙ্গে রয়েছে শব্দগত ভুল ও বানানে অসঙ্গতি।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। পাঠ্যবইয়ে এমন ভুলকে সহজভাবে দেখছেন না তারা। তাদের মতে আগামী প্রজন্মকে মেধাশূন্য করার লক্ষে এ ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। ভুলে ভরা পাঠ্যবই দ্রুত সংশোধনের পাশাপাশি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার তাগিদ তাদের।

নতুন পাঠ্যবইয়ের প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে বর্ণ পরিচয়ে "ওড়না" কিংবা ছাগলের আম খাওয়ার" মতো বির্তকিত বিষয় ছাড়াও গল্প, কবিতায় দেখা গেছে অসংখ্য ভুল। কুসুমকুমারী দাশের 'আদর্শ ছেলে' কবিতাটির যেসব অংশে ভুল হয়েছে তা এরই মধ্যে সরকারও নজরে নিয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ'র সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নে উদ্দীপকে রয়েছে এলোমেলো বাক্য। কোথাও "দিলেন" শব্দের পরিবর্তে ছাপা হয়েছে " দিল"। রয়েছে বানান ভুল। স্বর্গীয় বানানে রয়েছে ভুল।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্রে এবার কাজী নজরুল ইসলামের ভাব ও কাজ প্রবন্ধের পাঠের উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে এটি "কবিতা"। একই বইয়ে কালিদাস রায়ের বাবুরের মহত্ব কবিতাটির অনেক জায়গায় সেমিকোলন, দাঁড়ি, কমায় ভুল রয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্নে বাক্যগঠনে সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের "রূপাই" কবিতা যুক্ত করা হয়েছে সেখানে কবির বিশেষণ দেয়া হয়নি।

পাঠ্যবইয়ে এমন ভুল আগামী প্রজন্মকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

রাশেদা কে চৌধুরী প্রশ্ন তুলেন, পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে এতো বিশেষজ্ঞ যুক্ত থাকা সত্ত্বেও এমন ভুল কি করে হয়।

সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের বেশ কয়েকটি জায়গায় বাক্যগঠনে বড় ধরনের ভুল চোখে পড়েছে। কয়েকটি লাইনের শব্দের মাঝে স্পেস না দেয়ায় পুরো বাক্যই পরিবর্তন হয়ে গেছে। এমনকি দার্শনিক অ্যারিস্টটলের বানানে ভুল ছাড়াও গ্রিক ও ইংরেজি শব্দের বানান ভুল।

বিজ্ঞান বইয়ে কোথাও ওজোন শব্দ ছাপা হয়েছে ওজন, তাপমাত্রার জায়গায় "তাপমাত্র" বৈদ্যুতিক শব্দের বানান এসেছে বৈদুতিক হয়ে। এছাড়াও ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি বইয়েও রয়েছে বানান ভুল। গণিতে পৃষ্ঠা নম্বর এলোমেলো। কোথাও বহু নির্বাচনী প্রশ্নের শুধু অপশন দেয়া আছে, প্রশ্ন নেই।

ষষ্ঠ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বইয়ে রুই জাতীয় মাছ চাষের জন্য ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জায়গায় ছাপা হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা। নবম শ্রেণির ফিন্যান্স অ্যান্ড ও ব্যাংকিং বিষয়ের ৪৯ পৃষ্ঠায় " গড় মুনাফার হার পদ্ধতি এর ইংরেজি বলা হয়েছে অ্যাকাউন্টিং রেট অফ রিটার্ন মেথড। এটা হবে এভারেজ রেট অব মেথড। নবম শ্রেণিতে বিশ্ব পরিচয় বইয়ের এক জায়গায় জোয়ার-ভাটার কারণ হিসেবে মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব বলা হয়েছে, যেখানে হবে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব।

অষ্টম শ্রেণির আনন্দপাঠে সাতটি লেখার সবকটি বিদেশি লেখকদের। একটি বইয়ের সব লেখাই বিদেশি লেখকদের কেন এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

তবে সেখানে ভুলের অংশ অনেকটাই কম। এছাড়াও প্রতিটি গদ্য, পদ্যের শেষে পাঠের উদ্দেশ্যের বিস্তারিত থাকে। এবারের নতুন পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু গল্প-কবিতায় তা খুব সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিবছরই টাই-ডাইয়ের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ে ছোট খাট ভুল-ত্রুটি পরিবর্তন করা হলেও এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি বা জবাবদিহিতার নজির দেখা যায়নি। যদিও এবারের পাঠ্যবইয়ে ভুলের কারণে তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু বাড়িগুলোতে হামলায় নেতৃত্ব দেয় জামাত-বিএনপি-জাপা

চলছে রাজনৈতিক দরকষাকষি, নির্বাচন করতে পারবে না জামাত

ভয়াল ১২ নভেম্বর: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ৫ লাখ মানুষের জীবন

শেষ ধাপে রয়েছে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার বিচার প্রক্রিয়া

উচ্চ পর্যায়ে ক্ষমতার অভিলাসেরই পরিণতি ৭ নভেম্বর

অভ্যুত্থান সফল না হওয়ার জন্য মোশাররফের অদূরদর্শিতাই দায়ী