রাজনীতি

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ (১০:৪৫)

ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২

ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জোটদের নিয়ে ২৯৮টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা লড়বেন বলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে দলটি।

বিএনপির নতুন-পুরনো জোটসঙ্গী মিলিয়ে সব দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও একমাত্র এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া কক্সবাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাতের নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সমর্থন পাচ্ছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে গতকাল ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৪২টিতে বিএনপি নিজ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। এর বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামকে সাতটি, জেএসডিকে চারটি, নাগরিক ঐক্যকে চারটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে চারটি আসন দেয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত শরিক দলগুলো ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাদের সবার প্রতীক ধানের শীষ।

২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপিকে পাঁচটি, খেলাফত মজলিশকে দুটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে তিনটি, জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) দুটি, বিজেপিকে একটি, কল্যাণ পার্টিকে একটি, এনপিপিকে একটি, লেবার পার্টিকে একটি, পিপিবিকে একটি করে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

অর্থাৎ বিএনপির ২০ দলীয় জোটের এই শরিকরা ১৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এদের মধ্যে এলডিপির চার নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিলেও দলটির চেয়ারম্যান অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ভোট করবেন নিজের দলের প্রতীকে।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে নিবন্ধনহীন জামাতকে ২২টি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি।

গতকাল ইসিতে দেয়া চিঠির তালিকায় তাদের দলের নাম বিএনপি লেখা হয়েছে।

এসব আসনের প্রায় সব কটিতে জামাতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন। কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলাদা প্রতীকে ভোট করবেন।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এই প্রথম সংসদ নির্বাচন করছে বিএনপি। তার জন্য তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হলেও দণ্ডের কারণে সেগুলো বৈধতা পায়নি।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ২৫৯টি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল। ওই নির্বাচনে জামাতে ইসলামীসহ জোট শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি।

ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী :

গণফোরাম: সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭), এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসা আমিন (কুড়িগ্রাম-২), সুলতান মো. মনুসর আহমেদ (মৌলভীবাজার-২)।

জেএসডি: আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮), সাইফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-৩)।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী ( টাঙ্গাইল-৮) , লিয়াকত আলী (টাঙ্গাইল-৪), ইকবাল সিদ্দিকী (গাজীপুর-৩), মনজুরুল ইসলাম (নাটোর-১)।

নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এস এম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১), নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)।

২০ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী যারা:

এলডিপি: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।

এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

পিপিবি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান।

লেবার পার্টি: পিরোজপুর-২ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

জামাত প্রার্থী যারা:

ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী, বাগেরহাট-৩ আসনে আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলীম, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. সাহাদাত হোসেইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিউর রহমান, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসেইন, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী।

এছাড়া জামাত নেতাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিব মোমেন পাবনা-১ আসনে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পাবনা-১ আসনে গণফোরামের হয়ে ধানের শীষে প্রার্থী রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ।

রংপুর-৫ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোফাখরুল ইসলামকেও প্রথমে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জামাতের রাব্বানীকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেন বিএনপি মহাসচিব।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

এ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

ভুয়া নির্বাচন জায়েজে জনগণের টাকা শ্রাদ্ধ করল সরকার: রিজভী

দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই শেখ হাসিনার এ বিজয়

আ’লীগের নৈতিক পরাজয় ঢাকতেই বিজয় উৎসব: ফখরুল

সোহরাওয়ার্দীতে আ’লীগের বিজয় উৎসব

বিএনপিকে পরাজয়ের কারণ খোঁজার পরামর্শ হানিফের

ওবায়দুল কাদেরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বললেন ফখরুল

সংলাপ নয়, শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী: ওবায়দুল

সর্বশেষ খবর

ইইউ কূটনীতিক-কর্মকর্তাদের বিশেষ ভিসা বাতিল করল আসাদ

জোট নয় দলীয়ভাবে উ.পরিষদ নির্বাচন করবে আ’লীগ: কাদের

সিরাজগঞ্জে জুটমিলে পুড়ল তাঁত সেক্টরের মালামাল

ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী শুরু হচ্ছে আরসিজি সম্মেলন