রাজনীতি

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ (১৮:৩৩)

আ’লীগ আমলে ঐক্যফ্রন্টে রেজা কিবরিয়া, বিব্রত বিএনপি নেতারা

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে চান।

তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রার্থী হতে গণফোরামে যোগ দিয়েছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে তিনি এই আসনে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন— এ কারণে শুক্রবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন ড. রেজা কিবরিয়া।

তিনি বলেন, আমি সবসময়ই জন্মস্থান নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনেই নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলাম। এবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য দেশে এসেছি।

রেজা কিবরিয়ার খবরে নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ড. রেজা কিবরিয়ার বাবা হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতাকর্মী। সেই রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে এটা আমাদের জন্য চরম বিব্রতকর।

কিবরিয়া হত্যামামলার আসামি বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র (বরখাস্ত) জি কে গউছ। এই মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর কারাগারে যেতে হয়েছিল তাদের, বরখাস্ত হতে হয় গউছকে।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, খালেদা জিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরও মামলার আসামি।

তিন দফা তদন্তের পর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলা এখনও বিচারাধীন।

রেজা যে আসনে প্রার্থী হতে চান, সেই হবিগঞ্জ-১ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি শেখ সুজাত মিয়া এবারও ভোটের লড়াইয়ে নামতে চান।

কিবরিয়াপুত্রের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় কোনো সিদ্ধান্ত পাননি জানিয়ে ছাবির বলেন, আমাদের এখানে দলীয়ভাবে শেখ সুজাত সাহেবই যোগ্য প্রার্থী। আমরা তাকেই প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই।

তবে এখনও কোনো সিগনাল আমরা পাইনি দলের হাই কমান্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই অপেক্ষায় আছি জানান তিনি।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকাদ্দছ মিয়া বাবুল বলেন, ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে আসলে কেন্দ্রীয় নির্দেশ আমাদের মানতে হবে। কেন্দ্রে যাকে ধানের শীষ দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।

শাহ এ এম এস কিবরিয়া ২০০১ সালে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনের সাংসদ ছিলেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কেন হলেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে রেজা কিবরিয়া শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ১০ বছর ধরে যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার আদর্শের সঙ্গে মিল নেই।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা যে আদর্শ লালন করতেন, আওয়ামী লীগ এখন সেই জায়গায় নেই।

অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া জানান, তার বাবাকে ২০০৫ সালে হত্যার পর বিএনপির সরকারের সময় এবং পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরেও এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি দলটি বলেন তিনি।

রেজা কিবরিয়া আরও বলেন, কী কারণে আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নেয়নি, তা দেশের মানুষ আন্দাজ করতে পারছেন। মামলার আংশিক তদন্তকাজ করে তারা আমাদের জোর করে এ তদন্ত মেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি মামলার বাদী সাংসদ আবদুল মজিদ খান আমার মাকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, এ তদন্তই মেনে নিতে হবে। তিনি আমার মাকে এ ধমক দেওয়ার সাহস কোথা থেকে পান?’

রেজা কিবরিয়া দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এবার দেশের মানুষ বলুক, আওয়ামী লীগের প্রতি আমার আনুগত্য থাকা উচিত কি না?’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে নির্বাচন করবেন।

রেজা কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করার। আমি সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এলাকাটি অবহেলিত একটি জনপদ। এলাকার মানুষের জীবনমানে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। এখানের মানুষ চায় না রুগ্‌ণ কোনো চেহারা বারবার আসুক।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, তিনি ও তার বাবা জাতিসংঘে কাজ করেছেন। তবে দেশের জন্য তাদের অন্য রকম ভালোবাসার টানে দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও স্থায়ী হননি। তিনি সাংসদ হলে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকাকে দেশের অন্যতম এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে জানান।

এদিকে ২০১১ সালে হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। এবারও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এলাকায় জনসংযোগ করছেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. রেজা বলেন, শেখ সুজাত মিয়া ভালো মানুষ। তিনিও এলাকার উন্নয়ন চান। তাই তিনি আমাকে সমর্থন করবেন এবং আমার জন্য কাজ করবেন। শুধু এমপি হিসেবে-ই নয়, আরও অনেক দায়িত্ব আছে। সুজাত মিয়ার অবশ্যই মূল্যায়ন হবে।

এদিকে শোনা যাচ্ছে, এরই মধ্যে রেজা কিবরিয়া ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচনে অংশ নিতেই দেশে এসেছেন তিনি। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কথাও হয়েছে। তবে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড. রেজার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, এখনও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে বিএনপি: কাদের

প্রশাসনের গোপন বৈঠকের তথ্য দিলেন রিজভী

ফলোলাপের কথা অস্বীকার মোশাররফের

সকলকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না: মওদুদ

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি প্রচারণা শুরু

হামলার অভিযোগ বিএনপির মিথ্যাচারের রাজনীতিরই অংশ: আ’লীগ

আমি নিরাপত্তায় ভুগছি: মির্জা আব্বাস

সর্বশেষ খবর

প্রশাসনের গোপন বৈঠকের তথ্য দিলেন রিজভী

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে বিএনপি: কাদের

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন: সিইসি