রাজনীতি

বৃহস্পতিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (১৯:০০)

খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দিতেই কারাগারে আদালত

জয়নুল আবেদীন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দিতেই কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

তিনি বলেছেন, সাধারণ জনগণ যাতে এই মামলার বিচার কাজ দেখতে বা বুঝতে না পারে সেজন্য সরকার ক্যামেরা ট্রায়াল করেছে।

আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই বিচার ব্যবস্থায় কারও অধিকার খর্ব হয়নি। বরং খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয়েই বিচারের সম্মুখীন হতে চাচ্ছেন না

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

সংবিধান ও আইন মোতাবেক উন্মুক্ত আদালত নয়—বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ সম্পন্নে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত।

তিনি বলেন, সংবিধানের আর্টিকেল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা মোতাবেক আদালত বলতে একটি উন্মুক্ত আদালতের কথা বলা হয়েছে। যেখানে যে কোনো পাবলিকের সাধারণভাবে প্রবেশাধিকার থাকে। কিন্তু কারাগারের যে ৭ নম্বর কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা সংবিধানের ৩৫(৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা মোতাবেক কোনো উন্মুক্ত আদালত নয় বা হতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘ওই আদালতে পাবলিক তো দূরের কথা খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী, আসামিদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা দলীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার নেতা কর্মীদের প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শ্রবণ করার কোনো সুযোগ নাই।’

জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, কারা অভ্যন্তরে গঠিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় এবং সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় এরূপ বেআইনি আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোনো সুযোগ নেই।

গতকাল আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, এখানে ন্যায়বিচার নেই— যা ইচ্ছে তাই সাজা দিতে পারেন, যত ইচ্ছে সাজা দিতে পারেন আমি অসুস্থ বারবার আদালতে আসতে পারব না ।

নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বিচারকাজে চলার সময় এসময় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে— আমার সিনিয়র কোনো আইনজীবী আসেনি, এটা জানলে আমি আসতাম না।

আদালত থেকে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার কোনো সিনিয়র আইনজীবী আদালতে ছিল না। তাদের যথাযথভাবে নোটিশ দেয়া হয়নি। যে প্রজ্ঞাপন গত রাতে করা হয়েছে, তা সাত দিন আগে কেন হয়নি। আদালতকে জানিয়েছি, আমি অসুস্থ, বারবার আসতে পারব না।

গত ৪ সেপ্টেম্বর কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করতে পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গতকাল ওই আদালতে বিচার কাজও শুরু হয়।

গতকালই ওই আদালত স্থাপনে জারি করা গেজেট বাতিলে আইন সচিবের কাছে খালেদা জিয়ার পক্ষে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

তারেক নির্বাচনী কাজে অংশ নেয়া নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন: ওবায়দুল

খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন: ফখরুল

নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন: মান্নান

আ’লীগের মনোনয়নে বাদ পড়তে পারেন চেনা মুখ

তারেককে রেখেই চলছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার

ড. কামালের চেম্বারে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা

শেখ হাসিনাকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার যোগসূত্র নেই

ড. কামালের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রেজা কিবরিয়া

হঠাৎ বন্ধ স্কাইপি (Skype)

পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তহবিল বাতিল

তারেকের সাক্ষাৎকার গ্রহণে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে না: ইসি সচিব

নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন: মান্নান