জাতীয়

বুধবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৮ (১১:৪১)

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চুক্তির বিষয়ে চারটি গভীর সংশয় প্রকাশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চুক্তির বিষয়ে চারটি গভীর সংশয় প্রকাশ

বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এক চুক্তি করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বিবিসিকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার প্রতিদিন ৩০০ করে প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং দুই বছরের মধ্যে এ প্রত্যাবাসন শেষ করা হবে।

তবে কবে থেকে এ প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

গত বছর ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর এক অভিযান শুরুর পর থেকে থেকে এ পর্যন্ত ছয় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

নির্যাতনের ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে আসাদের কাছ থেকে জানা গেছে, হত্যা, ধর্ষণ, ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ সব বর্ণনা।

জাতিসংঘ একে এথনিক ক্লেনজিং বা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে।

শুরু থেকেই মিয়ানমার অবশ্য তা অস্বীকার করেছে।

এরপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এ রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা শুরু হয় নভেম্বর মাসে।

তবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান সংশয় রয়েছে চারটি, বলছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিতে কি আছে?

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে বলেছেন, চুক্তিতে কি আছে তা নিয়ে তারা তেমন কিছুই জানেন না।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড জানান, দু দেশই একমত হয়েছে যে এই প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছামূলক।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব উ মিন্ট থু বলেন, প্রত্যাবাসন শুরু হবে ২৩শে জানুয়ারি।

পরিস্থিতি কি নিরাপদ?

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক লরা হাই বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার মতো নিরাপদ নয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেন, রোহিঙ্গারা বলছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে, বাড়িঘর পুননির্মাণ হলে এবং নিপীড়ন বন্ধ হলেই তারা মিয়ানমারে ফিরবে। তবে তেমন অবস্থা এখনো তৈরি হয় নি।

ত্রাণ সংস্থাগুলোরও এ নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মী রোজেনা এলিন খান বলছেন, উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মানে তাদের মৃত্যুর মুখে আবার ঠেলে দেয়া।

রোহিঙ্গারা কি কখনো নাগরিকত্ব পাবে?

রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা বলছেন, আমাদের প্রথম চাওয়া হলো নাগরিকত্ব।

এটা কি কখনো হবে?

বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না এবং তাদের ২০১৪ সালের জনগণনাতেও অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। তাদেরকে আসলে মিয়ানমারের বাসিন্দা বলেই স্বীকার করা হয় না।

তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করা হয়। নতুন চুক্তিতেও তাদের নাগরিকত্ব পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বাংলাদেশও তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না। শরণার্থী শিবিরে জন্মানো শিশুদের জন্মের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে না।

রোহিঙ্গারা কি তাদের জমি ফেরত পাবে?

সিরাজুল মোস্তফার কথা, তাদেরকে আমাদের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে কমপক্ষে ৩৫৪টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুরো বা আংশিক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কি এ জমি ফেরত পাবে, বা তারা কি প্রমাণ করতে পারবে যে এ জমি তাদের ছিল?

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, চুক্তিতে তাদের আবাসনের কথা আছে, ফেরার পর তাদের নির্মাণাধীন ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে।

উ মিন্ট আরো বলেছেন, তারা 'নতুন গ্রাম' তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। নতুন গ্রামের কথায় মনে হতে পারে যে রোহিঙ্গাদের পুরোনো জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। সূত্র বিবিসি বাংলা।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচনে যাবে আ’লীগ: ওবায়দুল

চা শ্রমিকদের কল্যাণে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিএনপি নির্বাচনে আসবেই: ওবায়দুল

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম ইসি: তোফায়েল

ইতালি সফর শেষে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা

ক্রমান্বয়ে সব রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার আশ্বাস মিয়ানমারের

কত টাকা চুরি করলে বিচার করা যায় না, বিএনপির প্রতি ইনুর প্রশ্ন

চুক্তি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ফেরানো হবে: খা শোয়ে

বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচনে যাবে আ’লীগ: ওবায়দুল

দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে, আশা এরশাদের

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম নিহত

নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা, গ্রেপ্তার ২