জাতীয়

রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ (১৪:০৩)

‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি কেন উচ্চারণ করেননি তার ব্যাখ্যা দিলেন পোপ

বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে পোপ ফ্রান্সিস

মিয়ানমারে সফর সময়ে একবারের জন্যেও হলেও পোপ ফ্রান্সিস তার ভাষণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি তা ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন।

তবে ওই ভাষণে তিনি ‘প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা’ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি আগেই উচ্চারণ করলে মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল আর ঝুঁকিটি তিনি নিতে চাননি বলেই শব্দটি উচ্চারণ করেননি।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সফর শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পোপ ফ্রান্সিস তার ওই সিদ্ধান্তের এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

পোপ বলেন, ‘আমি যদি শব্দটি উচ্চারণ করতাম, তাহলে মিয়ানমারের নেতারা মুখের ওপর সব আলোচনার পথ বন্ধ করে দিতেন। বিষয়টি সম্পর্কে আমি ভাবছি তা কিন্তু সবার জানা। ব্যক্তিগত ওই বৈঠকগুলো আমি ভেস্তে যেতে দিতে চাইনি। বৈঠকগুলো হওয়ায় আমি বেশ সন্তুষ্ট। আর ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করেও ওই বৈঠকেই মূল বার্তাটি আমি পৌঁছে দিতে পেরেছি।’

পোপ ফ্রান্সিস বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্যই তিনি মিয়ানমার সফর করেছেন। যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সংগত কারণেই শরণার্থীশিবির সফর করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়োজকেরা যখন তার সঙ্গে রোহিঙ্গা সদস্যদের সাক্ষাৎ করানোর জন্য নিয়ে এসেছিলেন তখন তাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে নিয়ে আসা হয়নি। বিষয়টি তাকে কষ্ট দিয়েছে। তিনি সাক্ষাৎ করতে আসা সব রোহিঙ্গা সদস্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। নিজেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মন্তব্য করেছেন।

পোপ বলেন, ‘তাদের (রোহিঙ্গা) কথা শুনে আমি কেঁদেছি। তবে আমি তা গোপন রাখার চেষ্টা করেছি। কারণ রোহিঙ্গারা তাদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন।’

পোপ সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালো’ হয়েছে। ওই বৈঠকে সত্য প্রকাশে তিনি কোনো সমঝোতায় যাননি। তার দেয়া বার্তা সাদরে গ্রহণ করেছেন মিন অং।

গত ২৮ নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যান পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে সরাসরি রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ না করলেও ভাষণে জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রতি পোপ তার শক্ত অবস্থান তুলে ধরেন।

ওই সফরে পোপ বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সমাজের প্রতিটি সদস্যের মর্যাদা ও অধিকারের ভিত্তিতে এই শান্তি আনতে হবে।

ভাষণ দেয়ার আগে পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সু চিও তার ভাষণে সরাসরি রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে রাখাইনের পরিস্থিতি ‘বিশ্বের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ’ করেছে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ মিয়ানমারের রোমান ক্যাথলিক চার্চ সফরের আগেই পোপকে অনুরোধ জানিয়েছিল, তিনি যেন তার ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, পোপের মুখ থেকে ওই শব্দটি এলে মিয়ানমারের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন করে সহিংসতা শুরু হতে পারে।

গত ২৮ নভেম্বর ইয়াংগনে পৌঁছানোর পরপরই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় পোপ ফ্রান্সিসের। ওই বৈঠক বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা থাকলেও সেনাবাহিনী শেষ মুহূর্তে বৈঠকের সময় এগিয়ে আনে। ফলে পোপ বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বসার আগেই তাকে সেনাবাহিনীর মনোভাব জানিয়ে দেয়ার সুযোগ হয় তাকে।

ওই বৈঠকের বিষয়ে পোপ সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার ‘ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং সত্য প্রকাশে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন কি না- এ প্রশ্নে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, যে বার্তা আমি দিতে চেয়েছি সেজন্য প্রয়োজনীয় সবই আমি ব্যবহার করেছি। যখন বুঝলাম, আমার বার্তা তাদের কাছে পৌঁছেছে, তখন আমার যা যা বলার ছিল সবকিছুই বলার সাহস পেলাম।

এরপর ইংগিতপূর্ণ হাসি দিয়ে পোপ বলেন, যার অর্থ- বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে পোপ বিষয়টি সেভাবে দেখছেন না।

গত ২৮ নভেম্বর সু চির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমার রাজনৈতিকভাবে বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং সেই চোখ দিয়েই বিষয়গুলো দেখতে হবে। রাষ্ট্রগঠনের কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে সেনা বাহিনীর নির্যাতনের পর থেকে বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে

৩২ ধারাসহ কয়েকটি বিষয়ে সম্পাদককের দাবি ‘যৌক্তিক’: আইনমন্ত্রী

বৈঠকে বসছেন হাসিনা-মোদি

বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

এশীয় ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি শান্তিপূর্ণ-স্থিতিশীলতা: শেখ হাসিনা

কোটা আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঢাবি উপাচার্যকে চিঠি

আইনের প্রয়োগ না হওয়াই সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না

কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন শুরু, যোগ দিলেন শেখ হাসিনা

বিশ্ব শান্তি-নারীর ক্ষমতায়নের কাজে কমনওয়েলথভুক্ত নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

কিমের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসু না হলে ওয়াকআউট: ট্রাম্প

নাইকো মামলা: খালেদা জিয়ার চার্জ শুনানি ১৩ মে

৩২ ধারাসহ কয়েকটি বিষয়ে সম্পাদককের দাবি ‘যৌক্তিক’: আইনমন্ত্রী

কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন শুরু, যোগ দিলেন শেখ হাসিনা