বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ (১৩:৪৮)
বঙ্গবন্ধু-শেখ-মুজিবুর-রহমানের-৯৮তম-জন্মদিন-আজ

শেখ মুজিবুর রহমান

আজ (শুক্রবার) ১৭ই মার্চ— বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন। একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেয়া, আবার সদ্য স্বাধীন সেই দেশটি গঠনেও সমান ভূমিকা রাখা-এ রকম সৌভাগ্য ইতিহাসে খুব কম জাতীয়তাবাদী নেতার বেলায় ঘটেছে।

শেখ মুজিবুর রহমান— বাংলাদেশের সমার্থক এ নাম জাতির আত্মপরিচয়, তথা দেশের ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে গেছে। তাই তিনি বাঙালির বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক।

গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, এখানেই জন্ম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের। সেই গ্রামের পাঠশালা পেরিয়ে ১৯৩৯ সালে স্থানীয় মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর হাতেখড়ি রাজনীতিতে।

এরপর লেখাপড়া কোলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। সাতচল্লিশে ভারত ভাগের পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। আর ১৯৪৮ সালেই ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে তাকে যেতে হয় কারান্তরালে।

সেই থেকে বারবার পাকিস্তানি সামরিক সরকারের টার্গেটে পরিণত হন শেখ মুজিব। ৫২, ৫৪, ৫৬, ৫৮ সালের দিনগুলোতে রাজনীতিতে তার দৃপ্ত পদচারণা। ছাত্রনেতা থেকে হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী। পাড়ি দেন আন্দোলন-সংগ্রামের বন্ধুর পথ।

৬২-৬৪ পেরিয়ে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আসেন বঙ্গবন্ধু। ৬ দফা হয়ে যায় বাঙালির মুক্তিসনদ। ৬৮-তে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দমানোর চেষ্টা চলে। তাতেই ৬৯-এর গণঅভ্যুথ্থানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। আর ৭০ -এর নির্বাচনে জয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ইয়াহিয়া টালবাহানা শুরু করলে অনিবার্য হয়ে পড়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম ।

আসে ৭১-এর ৭ই মার্চ। রেসকোর্সে লাখো মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ডাক দেন স্বাধীনতার। বাঙালিকে প্রস্তুত করেন সশস্ত্র লড়াইয়ে।

২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। চালায় বর্বর গণহত্যা। আর দেরি করেননি বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশকে ঘোষণা করেন একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে । শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

সেই রাতেই পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। একাত্তরের নয় মাস তার নামেই স্বাধীনতার যুদ্ধ চালিয়ে যায় পুরো জাতি। ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়।

৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা নেমে পড়েন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে।

তবে পরাজিত শক্তি পিছু ছাড়েনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে কতিপয় কুচক্রী রাজনীতিকের সহযোগিতায় কিছু কুচক্রী সেনাকর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে।

যার নামের সঙ্গে একাকার বাংলা, বাঙালি আর বাংলাদেশ, তার অনুরণন প্রতি নিঃশ্বাসে। যতোদিন এ দেশ, যতোদিন এ লাল-সবুজের পতাকা, ততোদিন ধ্রুবতারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না সরকার

এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

হাতিরঝিলে নতুন থানা স্থাপনের অনুমোদন

মেয়াদোর্ত্তীন অটোরিকসা সরানোর দাবির সঙ্গে পাঠাও-উবার বন্ধের দাবি

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে

জ্বালানি নিরাপত্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান: তৌফিক-ই-ইলাহী