জাতীয়

বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭ (১৭:৫০)

প্রকৃত ইতিহাস-বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা

দেশের প্রকৃত ইতিহাস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি শিশুদের প্রকৃত শিক্ষায় দিক্ষিত এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে দলমত-নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে দেয়া আজ- বৃহস্পতিবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রিয় মাতৃভূমিকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই প্রত্যেক শিশুর মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে তাদের ব্যক্তিত্ব গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দেশের সকল শিশুসহ দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার নিভৃত টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ প্রখ্যাত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম বেগম সায়রা খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাল্যকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক, দয়ালু এবং পরোপকারী। স্কুলে পড়ার সময়েই নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটে উঠে তাঁর মধ্যে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন বাংলার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল।

প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই বিশ্বনেতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েও নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালে তাঁর প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তিনি বারবার কারারুদ্ধ হন। কখনও জেলে থেকে কখনও জেলের বাইরে থেকে জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির বিয়োগান্তক ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধু অন্তরীণ অবস্থা থেকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬২’র শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬’র ছয় দফা, ’৬৮’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ’৭০’র নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব এবং সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব সমগ্র জাতিকে একসূত্রে গ্রথিত করেছিল। যার ফলে ‘আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিকাশ ঘটেছে বাঙালি জাতিসত্তার’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির অগ্রনায়ক। তিনি যখন স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজে আত্মনিয়োগ করেন, তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। এর মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-পরবর্তী অবৈধ সামরিক সরকারগুলো বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত এবং স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিতে পুনর্বাসন করে। জনগণ ভাত ও ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতি আজ দায়মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ও কার্যকর করা হচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর মমতা ছিল অপরিসীম। তাই তাঁর জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে আমরা ‘জাতীয় শিশু দিবস’ ঘোষণা করেছি। এদিনে আমি মহান আল্লাহর কাছে জাতির পিতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আগামীদিনের কর্ণধার শিশু-কিশোরদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

তিনি বলেন,‘আসুন, শিশুদের কল্যাণে আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি। সবাই মিলে জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলি। আজকের দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’ সূত্র বাসস।

এছাড়াও রয়েছে

অবৈধ দখলে থাকা খাল পুনঃখননে নামছে সরকার

কেন বন্দুকযুদ্ধ প্রশ্ন তুললেন সুলতানা কামাল

মন্ত্রিসভায় সরকারি টেলিফোন-সেলুলার-ফ্যাক্স-ইন্টারনেট নীতিমালা ২০১৮ অনুমোদন

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থেকে নম্বর -বিষয় কমানোর সিদ্ধান্ত

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: কামাল

সাংবাদিক নির্যাতনের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রামপালের কারণে বাড়াবে জনগণের ঋণের বোঝা

নির্বাচন থেকে সরে যাবার পথ খুঁজছে বিএনপি: ওবায়দুল

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে কি কি বিপদে পড়তে যাচ্ছেন!

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২ জুন থেকে

রাজীবের ভাইদের ক্ষতিপূরণে আদেশ স্থগিত, তদন্তের নির্দেশ

৯ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১