জীবনধারা

বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ (১৪:৫০)

আইয়ুব বাচ্চুর শেষ ঠিকানা মায়ের কবরে

গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু

তারা ভরা রাতে, --এখন অনেক রাত, খোলা আকাশের নিচে জীবনের অনেক আয়োজন শেষ- সবকিছু শেষ করে মায়ের কাছে আবার ফিরে গেলেন গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু।

কিরে বলি এইতো সেদিন রংপুর মাতিয়ে আসলেন তিনি। আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

বিশ্বঘুরে কোটি মানুষের মন জয় করে গিটার লিজেন্ড ফিরছেন চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরে—মায়ের কোলে।

সুরের জাদুকর শৈশবে ফিরছে – এ এনায়েত বাজারেই তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ড. মির্জা নাজিম উদ্দিন স্কয়ার হাসপাতালে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় আইয়ুব বাচ্চুকে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার গাড়ির চালক স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে মৃত অবস্থাতেই পাই— তারপরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। পরে ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

ড. মির্জা নাজিম উদ্দিন আরও জানান, আইয়ুব বাচ্চু বহুদিন হৃদরোগে ভুগছিলেন। ২ সপ্তাহ আগেও তিনি চেকআপ করিয়ে গেছেন। এর আগে ২০০৯ সালে তার হার্টে রিং পরানো হয়। আর ২০১২ সালে ফুসফুসে পানি জমার কারণে এ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর রাতে রংপুরে একটি কনসার্ট শেষ করে ১৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় ফিরেন আইয়ুব বাচ্চু।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবি’র দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক।

গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামেও পরিচিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২) এবং সর্বশেষ ‘রাখে আল্লা মারে কে’ (২০১৬) ।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ হলো তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে।

১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সবক’টি গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’। এর কথা ও সুর তারই। শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি।

রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানও জনপ্রিয়।

রুপালি গিটার ফেলে বহুদূরে চলে গেলেন ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। যেখান থেকে ফেরা যায় না কখনও

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

নয়াপল্টনে তরিকুলের জানাজা সম্পন্ন

না ফেরার দেশে তরিকুল ইসলাম

আজ শুভ বিজয়া দশমী

মহাষষ্ঠীতে আচার-অর্চনায় দেবীর অধিষ্ঠান মণ্ডপে মণ্ডপে

দুর্গোৎসবের পূণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ

ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গণি আর নেই

একাত্তরের জননী গ্রন্থের লেখক রমা চৌধুরী আর নেই

পূজা, আরাধরায় পালন শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি

খেশারত দিতে হয়েছে ভোট বর্জনে, আর বর্জন নয়: কামাল

আ’লীগ আমলে ঐক্যফ্রন্টে রেজা কিবরিয়া, বিব্রত বিএনপি নেতারা

তামিমকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দল ঘোষণা

নির্বাচনকে ভোটযুদ্ধ এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: ফখরুল