সোমবার, ৩০ মে, ২০১৬ (১৪:০৩)

জিয়া হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে রাজনীতি নয়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
জিয়া-হত্যাকাণ্ড—এ-নিয়ে-রাজনীতি-নয়

জিয়াউর রহমান

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ- সোমবার।

ক্ষমতায় থাকার সময় জিয়া হত্যার বিচারে তৎপর না হলেও ৩৫ বছর পর এসে বিএনপি এখন ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছে— তবে এনিয়ে দলটি কোনো রাজনীতি করতে চায় না।

বিগত ১৯৮১ সালের এ দিনে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জেনারেল জিয়া। যিনি একাত্তরের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। সামরিক শাসনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থেকে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

জিয়া হত্যার পর বিচার হয়েছে সামরিক বিদ্রোহের, ৩৫ বছরেও বিচার হয়নি জিয়া হত্যার— এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থানও রহস্যাবৃত। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিচারের উদ্যোগ না নিলেও এখন জিয়া হত্যার বিচার দাবি করছে বিএনপি।

জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন কলকাতার হেয়ার স্কুল আর করাচির ডি. জে কলেজে। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান ১৯৫৩ সালে, আর কমিশন প্রাপ্তি ৫৫-সালে। ১৯৭০-এ দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ডের। একাত্তরের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বর হামলার পর ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মেজর জিয়া।

এর পর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পেয়েছেন বীর উত্তম খেতাব।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হত্যার পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময়ে সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন জেনালের জিয়া। ক্যু পাল্টা ক্যুর ঘটনার পরিক্রমায় একপর্যায়ে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল শপথ নেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে।

১৯৭৮ এর শুরুতে জাগদল গঠন আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সামরিক জীবনে জেনারেল জিয়া ছোট বড় বেশকটি অভ্যুত্থান সামলাতে সক্ষম হলেও রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জেনারেল জিয়াউর রহমান।

ওই ঘটনার পর ১ জুন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলাও করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের অভিযোগে বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে সামরিক আইনে বিচার করে ফাঁসি দেয়া হয়। তবে ৩৫ বছরেও জিয়া হত্যার বিচার হয়নি। বরং অজ্ঞাত কারণে ওই হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডে বেসামরিক কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এই মর্মে ২০০১ সালে ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পর মূলত অপমৃত্যু ঘটে জিয়া হত্যা মামলার।

পরে বিএনপি দুবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেও রহস্যজনকভাবে এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ নিয়ে পুরোপুরি নীরব থাকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

তবে, জিয়া হত্যা মামলা হিমঘরে চলে গেলেও তা আবারো চালু করতে কোনো বাধা নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

ক্ষমতায় থাকার সময় জিয়া হত্যার বিচারে তৎপর না হলেও ৩৫ বছর পর এসে বিএনপি এখন ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছে— তবে এনিয়ে দলটি কোনো রাজনীতি করতে চায় না।

জিয়া হত্যার নেপথ্যে ওই সময়ের সেনাপ্রধান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জড়িত বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

বিশ্ব শান্তি কামনা করে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব সম্পন্ন

টেলিভিশন- বেতার মুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর

অবহেলায় পরিণত হয়েছে বেলতলী বধ্যভূমি

শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা উৎসব

আরও খবর

দেশে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ গুণ: শেখ হাসিনা

শামীম ওসমান-আইভিকে ডাকা হবে: ওবায়দুল

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চুক্তির বিষয়ে চারটি গভীর সংশয় প্রকাশ

উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবেন তরিকুল

না’গঞ্জের বন্দরে গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন দুই ডাকাত নিহত

রাখাইন রাজ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত ৭

শামীম ওসমান-আইভিকে ডাকা হবে: ওবায়দুল

ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত করল হাইকোর্ট

ডিএনসিসি উপনির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করলো ইসি

দেশে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ গুণ: শেখ হাসিনা