শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন

রবিবার, ০৮ জুলাই, ২০১৮ (১৬:৩৬)

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা হলো তা দুঃখজনক-লজ্জাজনক-অবিশ্বাস্য

নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দের' ব্যানারে কর্মসূচি পালন

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সাথে যা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে কখনও ভাবিনি। এটা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি, এমনকি ব্রিটিশ আমলেও ঘটেনি—এ মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

রোববার কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে 'নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দের' ব্যানারে এক কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে পদযাত্রা বের করেন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দ। পরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবি যোক্তিক ছিল— এটা সরকারও স্বীকার করেছে। কিন্তু সে দাবি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নামতে চাইলে, তাদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার শিকার এক ছাত্রী গণমাধ্যমের কাছে যা বলেছে, তা অকল্পনীয় ঘটনা। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে, তারা সবাই চিহ্নিত।

হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে তিনি বলেন, 'আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দিয়েছে—এটা খুবই অমানবিক। আন্দোলনকারী যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, 'একটি যোক্তিক আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা হাতুড়িপেটা খেয়েছে। এই হাতুড়ি শুধু শিক্ষার্থীদের মেরুদণ্ড ভাঙেনি, এটি বাংলাদেশে মানচিত্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়েও পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, 'আমরা অতীতে দেখেছি শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল। তাদের ওপর হামলা হলে তারা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ বহন করতেন। কিন্তু বর্তমান শিক্ষক সমিতি এসব বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখেনি।'

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন শিক্ষকদের পক্ষে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন।

দাবিগুলো হল— সকল হামলাকারীর বিচার করতে হবে; আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে; নারী আন্দোলনকারীদের ওপর যৌন নিপীড়কদের বিচার করতে হবে; কোটা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে গলা চেপে ধরার যে প্রবণতা তার নিন্দা জানাচ্ছি। হাসপাতাল থেকে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা না করে বের করে দেয়ারও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। সেটি সমুন্নত রাখার সুযোগ দিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক আকমল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। জামাত–শিবির ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়েছে। এখন যেকোনো দাবি তুললেই এ রকম করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্রদের দাবি প্রত্যাখ্যান করার ভাষা নিন্দনীয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিক্ষার্থীদের যেভাবে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায় গণতন্ত্র কোন অবস্থায় আছে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম মাহমুব সিরাজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আর্ন্তজাতিক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান প্রমুখ। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ অন্য ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রাশেদ এই বিভাগের এমবিএর ছাত্র।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে 'চাইতে গিয়ে অধিকার, সইব কতো অত্যাচার', 'নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই', 'চারদিকে হামলা কেন?', 'রাশেদের বাবাকে হুমকি কেন?', 'অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন দাও', 'রাশেদ কেন জেলে?' ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ভিকারুননিসায় প্রথম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

জেএসসি-জেডিসি এবং সমাপনী পরীক্ষার ফল ২৪ ডিসেম্বর

শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে একদল শিক্ষার্থী

ভিকারুননিসার নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম

ভিকারুননিসায় ৩ দিন পর পরীক্ষা শুরু

ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে, আন্দোলন স্থগিত

অরিত্রীর আত্মহত্যা: বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা

ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক বরখাস্ত, এমপিও বাতিল

সর্বশেষ খবর

প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, আহত ২২

আ.লীগ নির্বাচনে ১৬৮-২২২টি আসনে জয়ী হবে: জয়

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন: সিইসি

মোশাররফ-আইএসআই এজেন্টের ফোনালাপ ফাঁস, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ