প্রশ্নপত্র ফাঁস: পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার না হলে অপরাধ ঠেকানো সম্ভব না

সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ (১৭:৪৩)
প্রশ্নপত্র-ফাঁস-পরীক্ষা-পদ্ধতিতে-সংস্কার-না-হলে-অপরাধ-ঠেকানো-সম্ভব-না

প্রশ্নপত্র ফাঁস: পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার না হলে অপরাধ ঠেকানো সম্ভব না

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সরকার প্রতিবছরই কঠোর পদক্ষেপ নিলেও কার্যত কোনও উদ্যোগই কাজে আসছে না।

শিক্ষাবিদদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কোনও উদ্যোগই কাজে আসবে না। এ সমস্যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের অশনি-সংকেত বলে সতর্ক করেছেন তারা।

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ তাদের।

হাতে বা চিরকুটে উত্তর লিখে এনে নকল করার যুগের অবসান ঘটেছে অনেক আগেই। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষায় নকলেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবে সেটা হাতে লিখে, কিংবা বইয়ের পাতা ছিড়ে নয়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে। পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ই-মেইলের মাধ্যমে পেয়ে প্রশ্নপত্র পেয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। এবার এই জালিয়াতিতে যুক্ত হয়েছে মাস্টারকার্ড।

আর এই চক্রে রয়েছে, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষকদের কথাও জানা যায়। গত কয়েক বছরে প্রাথমিক থেকে শুরু করে পাবলিক পর্যায়ের সবকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নজির দেখা গেছে।

এবারও আসছে জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষাকে ঘিরে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ রয়েছে। এতো কিছুর পরেও কিভাবে কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এ নিয়ে চিন্তিত দেশের শিক্ষাবিদরাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনঞ্জরুল ইসলামের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষা নির্ভর হয়ে গেছে। পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার করা না হলে এই অপরাধ কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হবে না।

এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় জোট করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিলেন আরেক বিশ্লেষক।

প্রশ্নপত্র ফাঁস যেহেতু প্রযুক্তি নির্ভর, সেহেতু তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে একাজে একত্রিত করতে হবে।

মত দেন পরীক্ষা সংখ্যা কমিয়ে এনে শ্রেণিকক্ষে অধিক পাঠদানের ওপর। এই অপরাধের লাগাম এখুনি টেনে না ধরতে পারলে ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত বলে উল্লেখ করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

পাশাপাশি শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, সৃজনশীল পদ্ধতিকে বেশী গুরুত্ব দেয়া, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

শুরু হলো প্রাথমিক-ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

সরকার না চাইলে এ পরীক্ষা বন্ধের সুযোগ নেই: মোস্তাফিজুর

নকলের অভিযোগে ৭ পরীক্ষার্থীকে ২০ দিনের কারাদণ্ড

১৯ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু

৩৭তমর মৌখিক ২৯ নভেম্বর ও ৩৮তমর প্রিলি. ২৯ ডিসেম্বর

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু