অর্থনীতি

রবিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৮ (১৫:৫৯)

নির্বাচনের বছরে যথেষ্ট কালো টাকা বাজারে আসবে: অর্থমন্ত্রী

আবুল মাল আবদুল মুহিত

নির্বাচনের বছরে বাজারে কালোটাকার ছড়াছড়ি বাড়তে পারে –এ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, নির্বাচন ঘিরে বাজারে যথেষ্ট কালো টাকা আসবে।

তিনি বলেন, এ জন্য ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তারা বলেন ব্যংকিং ব্যবস্থা দুর্বল— তারা ভুলে যান আমরা কোন অবস্থা থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা শুরু করেছি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা যখন শুরু হলো তখন সব থেকে বড় সমস্যা ছিল ডিফল্ট (খেলাপি ঋণ) এবং ডিফল্ট রেট। অর্ধেকের বেশি ডিফল্ট রেট ছিল। সেখান থেকে সরকারি ব্যংকগুলো অনেক উন্নতি করেছে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও ব্যাংকিং সেক্টরে অনেক অসুবিধা ছিল। ফরেইন এক্সেঞ্জের রেট পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি ডলার ৪ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে একটানে সাড়ে ৭ টাকা, তারপরে ১৫ টাকা হওয়ায় ব্যাংকগুলো ঝামেলায় পড়েছিলো।

এটা দেখে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার তাদের বিশেষভাবে জোর দিতে হবে, কারণ আপনারা সবাই জানেন এ বছর নির্বাচনের বছর। এ বছর টাকা পয়সার ছড়াছড়ি বেশি হবে, কালো টাকা হয়ত যথেষ্ট আসবে বাজারে, এ বছর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংক খাত আস্তে আস্তে প্রসার পাচ্ছ— এ খাতের অবস্থা এখন ‘মোটামুটি ভালো’। ব্যাংক খাত যদি দুর্বল হতো তাহলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব হত না।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাহেব বিশেষ আবেদন করেছেন। এর জন্য প্রতিবছর বাজেট থেকে প্রচুর পয়সা দেই। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন বাজেটের টাকা, মানুষের টাকা ব্যাংক খাতে দেয়া- এটা ঠিক নয়। আমি বলব এটা ঠিক, কারণ ব্যাংক খাতে কোনো একটা ব্যাংকের বিপর্যয় আমরা হতে দিতে পারি না।

আগামী বাজেটেই রূপালী ব্যাংকের জন্য সুখবর আসতে পারে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহিত বলেন, বাংলাদেশে শিল্পখাতের ৭৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। সরকার চায়, ব্যাংক খাতে ওই ধরনের শিল্প উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেয়া হোক। তাদের হাত ধরে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তাদের উন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হবে; এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বেশ কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাতের আমানত ও ঋণের হার কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। কেননা এবছর নির্বাচনের বছর হওয়ায় টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি একটু বেশি হবে। কালো টাকাও বাজারে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তিত। তবে র্যা শিও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, আগামী বছরই রূপালী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তারা আশা করছেন। তারা এমন জায়গায় যেতে চান, যেখানে দেশে রূপালী ব্যাংকের সেবা্ই হবে সবার সেরা।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

কার্গো বিমানে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

খেলাপি ঋণ কমাতে গ্রাহক যাচাই-বাছাই করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

আরসিবিসি'র বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ভয়াবহ দরপতনের মুখে মার্কিন শেয়ার বাজার

সরাসরি ব্যাংকে চলে যাবে পেনশনের টাকা: অর্থমন্ত্রী

মোটা চালের দাম ৪০ টাকার নিচে নামানো যাবে না

মুদ্রানীতি ঘোষণা: বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬.৮ %

সময় বাড়ল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার

সংগীতশিল্পী সাবা তানি না ফেরার দেশে

খালেদাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়: বিএনপি

খালেদার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

বস্তা দেয়া হচ্ছে হিমাগারে: পাট সচিব